খুলনা | মঙ্গলবার | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

ইসলাম ইউরোপের জন্য গুরুতর হুমকি নয়, বলছে দ্য ইকোনমিস্ট

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩২ এ.এম | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইউরোপে মুসলিম অভিবাসীদের সমাজে একীভূত হওয়া নিয়ে প্রচলিত নানা আশঙ্কাকে চ্যালেঞ্জ করতে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের শিক্ষাগত সাফল্যকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট।
১২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত সাময়িকীটির প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘ইউরোপে ইসলাম নিয়ে স্যু ও মিথ্যা’। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসলাম নিজে ইউরোপের জন্য কোনো গুরুতর হুমকি নয়। তবে ইসলামপন্থি মুাদর্শ এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা বিদ্বেষকে আলাদা দু’টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছে সাময়িকীটি।
মুসলিম অভিবাসীরা ইউরোপীয় সমাজে ব্যাপকভাবে একীভূত হতে ব্যর্থ-এমন দাবির বিরোধিতা করতে গিয়ে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের শিক্ষাগত অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেছে দ্য ইকোনমিস্ট।
সাময়িকীটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে ব্রিটেনে স্ট্যান্ডার্ড পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের ৬৭ শতাংশ ১৯ বছর বয়সের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। একই ক্ষেত্রে শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশদের হার ছিল ৩৮ শতাংশ।
দ্য ইকোনমিস্ট বলেছে, এই পরিসংখ্যান মুসলিম অভিবাসীদের সন্তানদের শিক্ষাগত অগ্রগতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। তাদের মতে, অধিকাংশ মুসলিম অভিবাসী যে দেশে বসতি গড়েছেন, সেখানে নিজেদের জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে চান; তারা সাধারণত নিজেদের পূর্বপুরুষের সমাজকে হুবহু পুনর্গঠন করতে চান না। তবে শিক্ষাগত ও সামাজিক একীভবনের পাশাপাশি মুসলিমদের কিছু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও উদ্বেগের কথা জানিয়েছে সাময়িকীটি।
দ্য ইকোনমিস্টের জন্য পরিচালিত এক জরিপে ৫২ শতাংশ ব্রিটিশ মুসলিম সমকামিুাকে ভুল বলে মনে করার কথা জানিয়েছেন। ৩৫ বছরের কম বয়সি মুসলিমদের মধ্যে ৪১ শতাংশ বলেছেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে অপমানের ঘটনায় সহিংসতা ন্যায্য হতে পারে। ৩৫ বছরের বেশি বয়সি মুসলিমদের মধ্যে এই হার ২৫ শতাংশ।
তবে সাময়িকীটি সতর্ক করেছে, এসব সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উদ্বেগকে ইউরোপের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বৃহত্তর ‘জনমিতিক হুমকি’ হিসেবে দেখার দাবির সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।
এদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অভিবাসন বিরোধী ও ইসলামবিরোধী রাজনীতি জোরদার হওয়ার সময়েই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হলো। দ্য ইকোনমিস্ট জার্মানির অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি)-র সা¤প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যের কথা উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি ফ্রান্সে জনসমক্ষে ইসলামি হেডস্কার্ফ নিষিদ্ধ করার মেরিন ল্য পেনের প্রস্তাবের প্রতি ৬০ শতাংশ ফরাসি ভোটারের সমর্থন রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ