খুলনা | মঙ্গলবার | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

শুধু গোলাবারুদেই ব্যয় ২২.৩ বিলিয়ন ডলার, চাপে যুক্তরাষ্ট্র

খবর প্রতিবেদন |
০২:৩৩ পি.এম | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ইরানের চালানো আগ্রাসনের প্রথম চার মাসেই ২২.৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের ২৯ জুন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মোট আনুমানিক ব্যয় হয়েছে ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলার।

এর মধ্যে ২২.৩ বিলিয়ন ডলার গেছে ব্যবহৃত গোলাবারুদের পেছনে। এছাড়া ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে এবং যুদ্ধের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাতে অতিরিক্ত ৭.৪ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। এতে চাপ বাড়ছে মার্কিন প্রশাসনে।

তবে এই ৩৩.৪ বিলিয়ন ডলারের হিসাবের মধ্যে ইরানের পাল্টা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো মেরামত ও পুনর্র্নিমাণের ব্যয় অন্তর্ভুক্ত নেই।

কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব হিসেবের বাইরে রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ব্যবহারের কারণে মার্কিন সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারে কৌশলগত ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

একই সঙ্গে নতুন অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন এবং সরবরাহ বাড়াতে শিল্পখাতের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও সামনে এসেছে। এতে প্রচণ্ড চাপে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিবেদনের বরাতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধে ৩০টি পর্যন্ত MQ-9 Reaper ড্রোন এবং চারটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে।

এর বাইরে আরও কয়েকটি সামরিক বিমান ও উড়োজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। তবে ইরানের দাবি এসব সংখ্যা লুকিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে জুনের শুরু পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুদ্ধসংশ্লিষ্ট ব্যয় হয়েছে ১১৩ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে মার্কিন কূটনীতিক ও নাগরিকদের অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়ার খরচও রয়েছে।

ইরানের হামলায় ইরাক, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে প্রায় ১৮৪ মিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ কংগ্রেসকে জানিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

তবে ডেমোক্র্যাটিক সূত্রগুলো দাবি করেছিল, ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি পুনর্র্নিমাণের খরচ হিসাবের বাইরে থাকায় প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে। এতে চাপ বাড়ছে ট্রাম্প প্রশাসনে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ