খুলনা | মঙ্গলবার | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩

২৪ ঘণ্টায় হুতিদের নিশানা করে সৌদি আরবের ৫৪টি বিমান হামলা

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৫৩ পি.এম | ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, সৌদি আরব গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের তিনটি শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জেরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ‘দৃঢ়ভাবে’ জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করার পর এই হামলার অভিযোগ উঠল।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, হুতিদের হামলায় খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ শহরে ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। এতে সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বলেন, সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এসব হামলার ‘দায়িত্বশীল ও দৃঢ়’ জবাব দেওয়া হবে।

এর কয়েক ঘণ্টা পর হুতিরা জানায়, সৌদি বিমানবাহিনী ইয়েমেনের লাহিজ, তাইজ, আল-জাওফ, মারিব ও হাজ্জাহ প্রদেশে হামলা চালিয়েছে। তাইজের খাদির জেলার সরকারি একটি কমপ্লেক্সেও হামলা হয়েছে এবং এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, সৌদি ঘাঁটি থেকে এফ-১৫ ও টাইফুন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। এর পাল্টা জবাব দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন তিনি। হুতিপন্থী গণমাধ্যমের দাবি, তাইজের ধুবাব ও মাকবানাহ এলাকায় সৌদি হামলায় দুই শিশুসহ তিন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত এবং অন্তত দুজন আহত হয়েছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সৌদি আরবও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

এর আগে গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হুতিরা দাবি করেছিল, সৌদি বিমান হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। তাদের দাবি, বিমানঘাঁটির হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে ও গোলাবারুদের মজুতস্থল ছিল হামলার লক্ষ্য। একই সঙ্গে হুতিরা বলেছিল, আগের পাঁচ দিনে সৌদি যুদ্ধবিমান ইয়েমেনে প্রায় ৩০০টি বিমান হামলা চালিয়েছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে হুতিরা ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে দ্রুত অগ্রসর হয়ে লোহিত সাগরের উপকূলের বড় অংশ এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি কয়েকটি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। দক্ষিণ লোহিত সাগরের গ্রেটার ও লেসার হানিশ দ্বীপপুঞ্জ এবং মায়ুন দ্বীপ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবিও করেছে তারা।

বাব আল-মান্দেব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এ পথটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীও তাইজ ও লোহিত সাগর উপকূলে হুতিদের বিরুদ্ধে অগ্রগতির দাবি করেছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রের কোনো পক্ষের দাবিই স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

ইয়েমেনের এক দশকেরও বেশি সময়ের যুদ্ধ গত জুলাইয়ে নতুন করে তীব্র হয়। হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা শুরু করলে ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিও নতুন করে হুমকির মুখে পড়ে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ