খুলনা | বুধবার | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১ আশ্বিন ১৪৩৩

অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে

খুলনার ক্রিসেন্ট আলিম মাদ্রাসা অধ্যক্ষ, সহকারী শিক্ষক ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৫৮ এ.এম | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নগরীর খালিশপুরে ক্রিসেন্ট আলিফ মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মোঃ ইব্রাহিম, তার অন্যতম দুই সহযোগী ও প্রতিষ্ঠানের হিসাব সহকারী মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং সহকারী শিক্ষক মোঃ বদরুজ্জামানের বিরুদ্ধে নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।  
সংবাদ সম্মেলনে লিখতে বক্তব্য পাঠ করেন মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি এএসএম জাফর সাদিক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি আফসানা খাতুন, সহকারী শিক্ষক মোঃ নূরুন্নবী, সোনিয়া আক্তার, খাদিজা খানম, নাজমা আক্তার, শাহিনা খাতুন,  মুহাম্মাদ আলী, শারমিন আক্তার, শিক্ষক প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম, ইবতেদায়ী  মৌলভী নাছিমা আখতার, বিদ্যোৎসাহী সদস্য মোঃ শাহাজান আলী, অভিভাবক সদস্য জহিরুল ইসলাম ও ফারুক হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোঃ ইব্রাহিম, অফিস সহকারী মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং সহঃ শিক্ষক মোঃ বদরুজ্জামানের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাৎ, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি গত ১৬ এপ্রিল এক সাধারণ সভার মাধ্যমে অফিস সহকারী মোঃ শহিদুল ইসলামকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। একইসাথে মাদ্রাসা অধ্যক্ষের কাছে সবধরণের হিসাব-নিকাশ চাওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাচারিতা দূর করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোচিং বন্ধের বিষয়ে তাকে বলা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ নেওয়ায় মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে হুমকি-ধামকি ও তার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে। অভিযোগে কোনো ফল না হওয়ায় তারা মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সদস্য জহুরুল ইসলামকে সভার রেজুলেশনে স্বাক্ষর করতে হবে এমন কথা বলে তার স্বাক্ষর নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি বাতিলের অপতৎপরতা শুরু করেন এ প্রতিষ্ঠান প্রধান। এমনকি মাদ্রাসার শিক্ষা অধিদপ্তরে কমিটি বাতিলের জন্য একটি আবেদনপত্র জমা দেন। মিথ্যা তথ্য দিয়ে কৌশলে স্বাক্ষর নেওয়ায় অফিস সহকারী শহিদুল ইসলাম ও সরকারি শিক্ষক বদরুজ্জামানের বিরুদ্ধে জহুরুল ইসলাম খালিশপুর থানায় একটি জিডি করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ২৭ আগষ্ট মাদ্রাসা বোর্ডের সহকারী পরিদর্শক নজরুল ইসলাম সরেজমিন তদন্তে আসেন। তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠান প্রধান মোঃ ইব্রাহিম একইসাথে দু’টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার কথা বলে টাকা গ্রহণ করে নিয়েছেন এমনও তথ্য উঠে এসেছে। ক্রিসেন্ট জুট মিলে জন্মতারিখ ৮/৪/১৯৫৭ দেখিয়ে পেশ ইমাম পদে চাকরিতে যোগদান পূর্বক ২০১৬ সালে বিজেএমসি’র তারই অবসরকালীন সুবিধা টাকা উত্তোলন করেছেন। বর্তমান পদে যোগদানের সময় মোঃ ইব্রাহিম গত ২৫/৯/২০২৬ জন্ম তারিখ দেখিয়ে যোগদান করেন এমনও অভিযোগ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর অধ্যক্ষ মোঃ ইব্রাহিম অবসর গ্রহণ করবেন। এখান থেকেও তিনি আরোও দুই বছর সরকারি টাকা উত্তোলন করবেন এমনও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব দুর্নীতিমূলক কর্মকান্ডে মাদ্রাসার অফিস সহকারী মোঃ শহিদুল ইসলামের সম্পৃক্ততা রয়েছে। মাদ্রাসার সুপার অফিস সহকারী শহিদুল ইসলামের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বোর্ড নির্ধারিত ফি বাদেও রেজিস্ট্রেশন বাবদ অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। মাদ্রাসার প্রত্যেকটি পদে নিয়োগের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।  
মাদ্রাসা অধ্যক্ষ’র জামাতা সহকারী শিক্ষক (বাংলা) মোঃ বদরুজ্জামানের কামিল পাসের সনদপত্র না থাকা সত্তে¡ও ষড়যন্ত্রমূলক তড়িঘড়ি করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমনকি অধ্যক্ষ’র মামাতো ভাই আব্দুর রহিমকে নৈশ প্রহরী ও আব্দুর রহিমের স্ত্রী আক্তার জাহানকে নিরাপত্তা কর্মী পদে নিযুক্ত করে প্রতিষ্ঠানকে আত্মীয়করণ করে ফেলেছেন এমনও অভিযোগ করা হয়েছে। সবকিছু মিলে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ বিভিন্ন উপায়ে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এহেন কর্মকান্ডের বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটি সভাপতিসহ একাধিক শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। 
মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মোঃ ইব্রাহিম এসব অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি চাকুরি থেকে অবসরে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সরাসরি জামায়াতের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছেন। এমনকি জামায়াতের একজন রোকন এমনও কথা বলেন তিনি। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ