খুলনা | বুধবার | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১ আশ্বিন ১৪৩৩

বংশালে মেস থেকে জবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

খবর প্রতিবেদন |
০৩:৩৬ পি.এম | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


রাজধানীর বংশাল থানাধীন চানখারপুলের কায়েতটুলি এলাকার একটি ছাত্র মেস থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) অনিক চন্দ্র পাল নামে এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বি কে গাঙ্গুলী লেনের ওই মেসের একটি কক্ষ থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

নিহত অনিক চন্দ্র পাল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তার গ্রামের বাড়ি সিলেট জেলার শিবপুর উপজেলায়। বর্তমানে তার মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

নিহতের মেসসদস্য ও জবি শিক্ষার্থী জয় ভূঁইয়া জানান, গত সোমবার থেকে অনিকের তেমন কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার দিকে অনিকের এক ব্যাচমেট তাকে ফোনে না পেয়ে মেসে গিয়ে খোঁজ নিতে বলেন।

পরে জয় ভূঁইয়া ও ওই ব্যাচমেট অনিকের কক্ষে গিয়ে দীর্ঘ সময় দরজায় কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তাদের সন্দেহ হয়।

জয় ভূঁইয়া বলেন, ‘দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ হয়। পরে জানালার কাচ ভেঙে ভেতরে তাকিয়ে অনিককে গলায় গামছা প্যাঁচানো অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখা যায়। এরপর দরজা খুলে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

সহপাঠী ও মেসসদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার দুই দিন আগে অনিকের প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদ হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ ও ভাঙা অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তিনি মেসে একা চুপচাপ থাকছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রাথমিকভাবে প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদের বিষয়টি সামনে আসার কথা জানানো হয়েছে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া শেষে জানা যাবে।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রয়িং ও পেইন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর সুবাস পাল।

তিনি বলেন, ‘স্টুডেন্টরা আমাকে ঘটনা জানানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আমি ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছাই। কিন্তু ততক্ষণে আমাদের স্টুডেন্ট আর বেঁচে ছিল না।’

সুবাস পাল আরও বলেন, ‘আমি ওর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। ওর বাবার সঙ্গেও কথা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা আসার পর মেডিকেল ও থানার প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।’

তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে অনিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ