খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২ আশ্বিন ১৪৩৩

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরীক্ষা আপত্তি শূন্যে নামানোর নির্দেশ

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৪৮ পি.এম | ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬



পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিরীক্ষা আপত্তির সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। পুরোনো অডিট আপত্তি ধীরে ধীরে নিষ্পত্তির পাশাপাশি নতুন করে যাতে কোনো আপত্তি না আসে, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার ইউজিসি অডিটোরিয়ামে ‘পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ‘২৪ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আজকের পত্রিকা। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) অধীন শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে ২৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৩২টি ক্ষেত্রে অনিয়ম চিহ্নিত হয়েছে। এসব অনিয়মে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২ হাজার ৩১ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার ৩০ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রতিবছর নিরীক্ষা আপত্তির সংখ্যা বাড়ছে। এ বছর বৃদ্ধির হার গত বছরের চেয়েও বেশি। বিষয়গুলো প্রকাশ্যে এলে মানুষের মধ্যে সরকারি অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় হচ্ছে না—এমন ধারণা তৈরি হয়।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘আমাদের এই মুহূর্তের সিদ্ধান্ত হচ্ছে, আমরা শূন্য অডিট আপত্তিতে পৌঁছাতে চাই।’

পুরোনো অডিট আপত্তি এক দিনে সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরোনো আপত্তিগুলো ধীরে ধীরে কমাতে হবে এবং নতুন কোনো আপত্তি যাতে না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে। অডিট আপত্তির বড় একটি কারণ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত বিধিমালা (পিপিআর) ও আর্থিক বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ না করা। ক্রয়কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পিপিআর বিষয়ে সচেতন ও প্রশিক্ষিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে ইউজিসি সহযোগিতা করবে। একই সঙ্গে আর্থিক ব্যবস্থাপনার নিয়মও যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।

নিয়োগ, পদোন্নতি ও সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনে নিয়ম মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, অতীতের অনিয়মের কারণে তৈরি জটিলতা নিয়মের মধ্যে থেকে সমাধানের চেষ্টা চলছে। এখন থেকে নতুন কোনো অনিয়ম যাতে না হয়, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক থাকতে হবে।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আসলাম হোসেন। তিনি বলেন, দেশে ৬০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৭ টির কার্যক্রম চলমান। কর্মশালাটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে।

যৌক্তিক চাহিদা দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি আর্থিক শৃঙ্খলা এবং সরকারি আইন, বিধি ও প্রবিধান মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব ও অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ চৌধুরীসহ আরও অনেকে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ