খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১ আশ্বিন ১৪৩৩

অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ফের সাতক্ষীরা ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা |
১২:৪৭ এ.এম | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাতক্ষীরা ব্লিস হাসপাতালে মাত্র ৪২ দিনের ব্যবধানে অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে ফের অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও হাসপাতালে অবস্থানরত রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্বজনরা তড়িঘড়ি করে রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। 
মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের বেজমেন্টে এই অক্সিজেন সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় পুরো বেজমেন্টে ধোয়ার কুন্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ামাত্র গোটা হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় নার্সরা রোগীদের দ্রুত বের হওয়ার নির্দেশ দেন। আতঙ্কে হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় থাকা রোগী ও স্বজনেরা দ্রুত নিচে নেমে আসেন।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হাসপাতালের কর্মীরা ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রোগীর স্বজন মতিয়ার রহমান বলেন, আমরা রাতে খেয়ে রোগীকে ওষুধ খাওয়ানোর পর বসে ছিলাম। এরই মধ্যে নার্স এসে বলল, জিনিসপত্র থাক, মোবাইলটা নেন, দ্রুত বের হয়ে আসেন। ছয়তলায় সমস্যা হয়েছে। আমরা আস্তে আস্তে রোগী নিয়ে বের হয়ে আসলাম। বলল আগুন লেগেছে। নিচে এসে দেখলাম শুধু ধোঁয়া। আমরা খুব আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম।
আরেক রোগীর স্বজন জানান, হাসপাতালে আগের দিনই একজনের সিজার হয়েছিল। রাতে হঠাৎ আগুনের খবর পেয়ে নার্সরা সবাইকে দ্রুত নিচে নেমে আসতে বলেন।
তিনি বলেন, যে যেভাবে আছো নেমে এসো-এমন কথা বলা হচ্ছিল। প্রায় ৮-১০ জন ধরে রোগী নিচে নিয়ে আসতে আসতে আমাদের জীবন শেষ। সবাই বলছে আগুন লাগছে, চিল­াচিলি­ করছে, নার্সরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। আমাদের রোগীকে পরে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের পাশের বাসিন্দা মোঃ ইদ্রিস আলী ময়না বলেন, রাত ১১টার দিকে তিনি এক বন্ধুর সঙ্গে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। হঠাৎ জোরে শব্দ শুনে হাসপাতালের দিকে তাকিয়ে দেখেন, নিচের দিকে ধোঁয়ায় ভরে গেছে।
তিনি বলেন, আমার বাসা পাশে। কয়েক দিন আগে এখান থেকে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা তো বউ-ছেলে পেলে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি। এটা কীভাবে সমাধান হয়, সমাধানের পথ বের করতে হবে, যাতে আমরা ছেলে মেয়ে নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারি। এখানে কয়েকদিন পরপর এই পরিস্থিতি হচ্ছে। এটা নিয়ে আমরা আতঙ্কিত।
সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, আগে যেখানে অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখা ছিল, সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। ওই স্থানেই আগের অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হয়েছিল বলেও জানান তিনি। 
নুরুল ইসলাম আরো বলেন, আমরা সংবাদ পাই ব্লিস হাসপাতালে আবারও আগুন লেগেছে। সংবাদ পাওয়ার মাত্রই এখানে আসি। উপস্থিত হয়ে দেখি, যেখানটায় অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল, ওই জায়গা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। প্রথমে আমরা নিচে ঢুকে দেখি ধোঁয়ায় ভরা। আগুনটা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ধোঁয়ার কারণে রোগী ও স্বজনরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে তাড়াহুড়া করে নিচে নামছিলেন। আগুনের ঝুঁকি না থাকায় পরে তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই হাসপাতালে বারবার অগ্নিকান্ডের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা বলেন, হাসপাতালটি বড় এবং প্রতিটি ফ্লোরে অক্সিজেনের লাইন রয়েছে। ভবনের নিচে থাকা সিলিন্ডার থেকেই পুরো ব্যবস্থাটি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। তার ধারণা, অক্সিজেনের চাপ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা হয়ে পাইপ ফেটে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
এর আগে গত ৪ আগস্ট দুপুরে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় আরও ইউনিট যুক্ত হয়ে মোট চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগীদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অপর দিকে মাত্র ৪২ দিনের ব্যবধানে একই হাসপাতালে একই স্থানে ফের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় রোগী-স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একই স্থানে বারবার আগুন লাগার কারণ, হাসপাতালের অক্সিজেন ব্যবস্থাপনা এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ