খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইতালি পাচারকালে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু, চক্রের আরও দুই সদস্য গ্রেপ্তার

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৩৮ পি.এম | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল বিপুল পরিমাণের অর্থ। পরে লিবিয়া থেকে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারে করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করা হয় তাদের। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই তিউনিসিয়া উপকূলে ডুবে যায় ট্রলার। প্রাণ হারান আট বাংলাদেশি।

ওই ঘটনায় মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মাদারীপুরের রাজৈর থানাধীন টেকেরহাট বাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, মাদারীপুরের রাজৈরের মো. রফিকুল ইসলাম রফিক বাঘা (৫৪) ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের মো. আমির হোসেন স্বপন (৩৮)।

সিআইডির মানব পাচার বিরোধী ইউনিটের তদন্তে উঠে এসেছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র বৈধ পথে ইতালি পাঠানোর কথা বলে ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেয়। পরে তাদের অবৈধভাবে লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইতালি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল­াহ জানান, ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় তিউনিসিয়ার উপকূলে নৌকাডুবিতে আট বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

নিহতদের মরদেহ পরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দেশে ফিরিয়ে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই ঘটনায় বেঁচে ফেরা একমাত্র ভুক্তভোগী আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মানবপাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেন।

গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে নিহত ভুক্তভোগী রাসেল শেখের (১৯) পরিবারের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ এবং সেই টাকা মানবপাচারকারী চক্রের অন্য সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে রাসেলকে বিদেশে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার কথাও তারা জানিয়েছে।

গ্রেপ্তারদের আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদারীপুরের রাজৈর থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর ৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মামলা সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে। মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি।

গ্রেপ্তারদের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি, পলাতক আসামি এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তে কাজ চলছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদেরও শনাক্ত করা হচ্ছে।

এখানে উলে­খ্য যে, এর আগে একই মামলায় গুরুদাস বারই (৪৫) ও মো. মোতলেব মাতব্বর (৬৮) নামে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।

বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা ও মানবপাচার থেকে সতর্ক থাকার আহŸান জানিয়েছে সিআইডি। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করতে নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে।

ভিসা করে দেওয়ার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি, পাসপোর্ট জিম্মি করে রাখা, ভিসা জালিয়াতি, মানবপাচার কিংবা অবৈধ অভিবাসনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ