খুলনা | রবিবার | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সংকটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার মান নিশ্চিত করুন

|
১২:০৮ এ.এম | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে হালচাল, তা কোনোভাবেই সন্তোষজনক বলা যাবে না। বেশির ভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে সীমাহীন অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা।
নেই স্থায়ী ক্যাম্পাস, নেই প্রয়োজনীয় শিক্ষক। এমনকি প্রায় অর্ধশত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদও শূন্য রয়েছে। এই সবকিছুর প্রভাব গিয়ে পড়ছে শিক্ষার মানের ওপর। নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি বছর সনদও বিতরণ করা হয়-কিন্তু হতাশার বিষয় হলো, শিক্ষার্থীরা পরিপূর্ণ জ্ঞান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হচ্ছেন না।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে খেয়ালখুশিমতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্ডারগার্টেনের আদলে গড়া অনেক বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের পেছনে ছিল শুধু রাজনৈতিক বিবেচনা। কিন্তু বর্তমানে এসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নানামুখী সংকটে পড়েছে। জানা যায়, দেশে বর্তমানে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৭।এর মধ্যে সঠিকভাবে চলছে মাত্র ২০ থেকে ২৫টি। বলা যায়, আরো ২০টির মতো বিশ্ববিদ্যালয় মোটামুটি চলছে। কিন্তু বাকি ৭০টির মতো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মহাসংকটে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১২ বছরের মধ্যে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ১১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পুরোপুরি স্থায়ী ক্যাম্পাসে গেছে মাত্র ৫৩টি। আর এ পর্যন্ত স্থায়ী সনদ পেয়েছে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া আরো কিছু বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার প্রক্রিয়াধীনে। তবে বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার কথা বলেও যেতে পারছে না।
যেসব বিশ্ববিদ্যালয় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে, তারা শিক্ষার্থী পাচ্ছে না। এতে আয় না থাকায় ভালো শিক্ষকও সেদিকে পা বাড়ান না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এক-দু’জনের বেশি অধ্যাপক নেই। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় যে কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বেতন মাত্র ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা। ল্যাবরেটরি নেই, পাঠাগার নেই, ক্লাসও ঠিকমতো হয় না। বাস্তবতা হলো, এগুলো সাইনবোর্ডসর্বস্ব বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়েছে।
ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মালিক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সহসভাপতি আবুল কাসেম হায়দার যথার্থই বলেছেন, ‘বর্তমানে ভালোভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয় করতে চার-পাঁচ শ’ কোটি টাকা দরকার। কিন্তু এত দিন ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়েও অনেকে বিশ্ববিদ্যালয় করেছে। অর্থাৎ, একটি দোকান খুলে সার্টিফিকেট বিক্রি করছে। এগুলোতে লেখাপড়ার কোনো মান নেই। এখন যে অবস্থা, তাতে মনে হয় অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই বন্ধ করার সময় এসে গেছে।’
এটি ঠিক যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার নতুন দুয়ার সামনে এনেছে। একসময় হাতে গোনা কয়েকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর চাহিদা সামাল দেওয়া সম্ভব ছিল না। অনেকে বিদেশের পথ ধরেছে। এমন প্রেক্ষাপটে নব্বইয়ের দশক থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এরই মধ্যে গুটিকয় বিশ্ববিদ্যালয় বেশ সুনামও অর্জন করেছে। কিন্তু হতাশার দিক হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে তালিকাই শুধু দীর্ঘ হয়েছে, কাজের কাজ হয়নি।
আমাদের মনে রাখা দরকার, উচ্চশিক্ষার সুনির্দিষ্ট ধারণা রয়েছে। এর পরিপূরক অবকাঠামো থাকা আবশ্যক। কাজেই ন্যূনতম শর্ত পূরণ না করে একটি বিশ্ববিদ্যালয় কিভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করে, তা জবাবদিহির আওতায় আনা দরকার। এছাড়া শিক্ষা প্রদানে সক্ষমতা হারানো বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও সতর্ক করা প্রয়োজন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ