খুলনা | রবিবার | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

তালায় ভুল অস্ত্রোপচারে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে সার্জিক্যাল ক্লিনিক বন্ধ

তালা প্রতিনিধি |
০১:০৪ এ.এম | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তালায় অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচারের প্রায় এক মাস পর সাধন বিশ্বাস (৪৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, প্রথম অস্ত্রোপচারের পর জটিলতা দেখা দিলে তাঁকে আরও দুই দফা অস্ত্রোপচার করানো হয়। সর্বশেষ খুলনার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় প্রথম চিকিৎসা নেওয়া ভুল অস্ত্রোপচারের অভিযোগ ওঠার পর তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে গত শুক্রবার রাত ৮টার দিকে তালা উপজেলার মেলাবাজার এলাকায় ক্লিনিকটির সামনে রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন। নিহত সাধন বিশ্বাস খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মাহামুদকাটি গ্রামের কার্তিক বিশ্বাসের ছেলে।স্বজনদের ভাষ্য, প্রায় এক মাস আগে পেটে তীব্র ব্যথা নিয়ে সাধনকে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। ক্লিনিকের মালিক বিধান চন্দ্র রায়ের পরামর্শে সেখানে ডাঃ আব্দুর রহমান তাঁর এ্যাপেন্ডিসাইটিসের অস্ত্রোপচার করেন। প্রথম অস্ত্রোপচারের কয়েক দিন পর অস্ত্রোপচারে ত্র“টি হয়েছে জানিয়ে ক্লিনিকের মালিক বিধান চন্দ্র রায় নিজেই দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করেন। এরপর সাধনের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তৃতীয় দফায় অস্ত্রোপচারের পর শুক্রবার দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর স্বজন ও স্থানীয়রা মরদেহ নিয়ে ক্লিনিকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ সময় ক্লিনিক ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে কোনো ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্লিনিকের সামনে কিছু লোকজন জড়ো হয়েছিল। তবে সেখানে ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের মালিক বিধান চন্দ্র রায় বলেন, দুই পক্ষের সমঝোতায় বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছে।
সাতক্ষীরার সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ শনিবার সকালে তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল রোববার অফিস সময়ে চিঠি ইস্যু করা হবে। তবে অস্ত্রোপচারে চিকিৎসাগত কোনো ত্রæটি হয়েছিল কি না এবং সেটিই রোগীর মৃত্যুর কারণ কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ