খুলনা | রবিবার | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

রূপসায় ডেঙ্গুজ¦রে একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে স্তব্ধ পরিবার

রূপসা প্রতিনিধি |
০২:০৩ এ.এম | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গতকালও এই সময়ে আমার প্রাণের টুকরো আমার সঙ্গে কথা বলেছে। বলেছে আমার তেমন জ্বর না মা, আমি অল্পতেই সুস্থ হয়ে যাব, হাসপাতালে যাওয়া লাগবে না।’ এখন আমি আমার ধনকে ছাড়া কীভাবে বাঁচব! এভাবে বিলাপ করতে করতে বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন মা কাজল বিশ্বাস। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মায়ের এমন বুকফাঁটা আর্তনাদে যেন ভারী হয়ে উঠেছে ধোপাখোলা গ্রামের আকাশ-বাতাস। ডেঙ্গুজ¦রের নির্মম ছোবলে অকালেই ঝরে গেল মাত্র ২৬ বছর বয়সী তরতাজা তরুণ দেব বিশ্বাসের প্রাণ।
রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের ধোপাখোলা গ্রামের বাসিন্দা দ্বিগবিজয় বিশ্বাসের তিন সন্তানের মধ্যে দেব বিশ্বাস ছিলেন একমাত্র পুত্র। একজন কাঠমিস্ত্রি হিসেবে দিন-রাত হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে ছেলেকে মানুষ করেছিলেন বাবা। দেব বিশ্বাস খুলনা সরকারি আযম খান কমার্স কলেজ থেকে ম্যানেজমেন্টে কৃতিত্বের সঙ্গে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। উচ্চশিক্ষিত হয়েও চাকরির পেছনে ছুটে সময় নষ্ট করতে চাননি দেব। তার স্বপ্ন ছিল স্বাবলম্বী হওয়া নিজের ঘের ও কৃষি জমিতে শ্রম দিয়ে কিছু একটা করার। সেই প্রত্যয়ে তিনি নিজের ঘের ও চাষাবাদের কাজে সারাদিন ব্যস্ত থাকতেন। পাশাপাশি গ্রামের যেকোনো মানুষের বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানো, খোঁজখবর নেওয়া ছিল তার নিত্যদিনের স্বভাব। তার অমায়িক আচরণ আর পরোপকারী মনোভাবের কারণে পুরো এলাকার মানুষের নয়নমণি হয়ে উঠেছিলেন এই তরুণ।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৩/৪ দিন আগে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হন দেব বিশ্বাস। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বাড়িতেই তার চিকিৎসা চলছিল। মা-বাবার উদ্বেগ কমাতে বারবার বলতেন, সামান্য জ্বরে কিছুই হবে না। কিন্তু গত শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। এরপর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
ছেলের এমন অকাল প্রয়াণে বাবা মায়ের আহাজারি দেখে সমবেদনা জানাতে আসা গ্রামবাসীও নিজেদের চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না।
গতকাল শনিবার দুপুরে দেব বিশ্বাসের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। পরে স্থানীয় ত্রিপল্লী মহাশ্মশান ঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শেষবারের মতো এই প্রিয়মুখটিকে বিদায় জানাতে শ্মশান ঘাটে ছুটে আসেন শত শত শোকার্ত মানুষ। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ