খুলনা | রবিবার | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদে ক্রিসেন্ট আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সংবাদ সম্মেলন

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:১১ এ.এম | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খুলনার খালিশপুরের ক্রিসেন্ট আলিম মাদ্রাসার সভাপতি এস এম জাফর সাদিকসহ কয়েকজন শিক্ষক ও সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন ও মাদ্রাসায় গ্র“পিংয়ের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মোঃ ইব্রাহিম।একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে করা বিভিন্ন অভিযোগকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত দাবি করে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মোঃ ইব্রাহিম এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে অধ্যক্ষ বলেন, ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মাদ্রাসায় একজন ল্যাব সহকারী নিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হলে সভাপতি তার পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে বাছাই কমিটি ও নিয়োগ কমিটি গঠন করেন। তার অভিযোগ, বাছাই কমিটির দুই সদস্য শাহাজাহান আলী ও আফছানা খাতুন বিভিন্ন প্রার্থীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে যোগাযোগ করেন। এমনকি পরীক্ষার দিন একজন প্রার্থীকে বড় অঙ্কের টাকা নিয়ে হাজির করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
অধ্যক্ষ আরও দাবি করেন, নিয়োগ পরীক্ষায় কাক্সিক্ষত প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় দ্বিতীয় হন এবং অপর একজন প্রার্থী প্রথম স্থান অর্জন করেন। এ সময় প্রথম স্থান অধিকারীকে নিয়োগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ১০ লাখ টাকা দিতে রাজি এমন কথাও কমিটির এক সদস্য তার অফিস সহকারীকে জানিয়েছিলেন। তিনি বলেন, পরবর্তীতে মৌখিক পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারীকে ৬ নম্বর এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে ১০ নম্বর দিয়ে দ্বিতীয় প্রার্থীকে প্রথম দেখিয়ে নিয়োগ দেওয়ার জন্য তাকে বাধ্য করা হয়। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অধ্যক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়োগে আর্থিক অনিয়মের প্রতিবাদে মাদ্রাসার একজন অভিভাবক সদস্য মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন। পরে ওই সদস্যসহ তিনজন অভিভাবক সদস্য ও একজন শিক্ষক সদস্য পদত্যাগ করেন।তিনি আরও বলেন, বিষয়টি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে অবহিত করার পর বোর্ড সরেজমিনে তদন্ত করে। তার দাবি, তদন্তে সভাপতির বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং তার উসকানিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে কোন্দলের বিষয় উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর সভাপতিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এসব ঘটনার পর সভাপতি ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা ও অসত্য তথ্য প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ।
নিজের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে মোঃ ইব্রাহিম বলেন, মাদ্রাসার সব হিসাব স্বচ্ছ এবং যে কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ চাইলে তা যাচাই করতে পারে।
দু’টি আইডি কার্ড ব্যবহার ও একই সঙ্গে দুটি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা নেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি। অধ্যক্ষের দাবি, মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হওয়ার সময় তিনি একটি মিল থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণ করতেন। সে কারণে মাদ্রাসা থেকে বেতন-ভাতা না নেওয়ার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে অবৈতনিক সুপার হিসেবে থাকার আবেদন করেন এবং তা কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করে।
‘নিজের চেয়ারে জামাইকে বসাবেন এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি অজ্ঞতাপ্রসূত অভিযোগ। মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান প্রধান শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। 
তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসার অফিস সহকারী গত ২৮ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময়ে কোনো ছাত্র বা অভিভাবকের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ তার কাছে আসেনি। তবে সভাপতির ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে ওই কর্মচারীকে শোকজ করা হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। সংবাদ সম্মেলনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ