খুলনা | রবিবার | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

পরীক্ষায় এআই ব্যবহারের ‘অপবাদে’ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, নিম্নবর্ণের হওয়ায় হেনস্তার অভিযোগ পরিবারের

খবর প্রতিবেদন |
০২:৩৮ পি.এম | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পরীক্ষা চলাকালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার কয়েক ঘণ্টার মাথায় আত্মহত্যা করেছেন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (আইআইটি) মুম্বাইয়ের এক শিক্ষার্থী। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জাতবৈষম্য ও হেনস্তার অভিযোগ তুলেছে সাহিল ওয়াকোড় নামে ওই শিক্ষার্থীর পরিবার।

আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন সাহিল।

সাহিলের বাবার অভিযোগ, তিন মাস ধরে ক্যাম্পাসে তাঁর ছেলেকে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হচ্ছিল। তাঁকে ‘নিচু জাতের’ বলে নানা মন্তব্য করা হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এসব ঘটনা আইআইটি মুম্বাইয়ের পরিচালকের নির্দেশেই ঘটছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।

তাঁর বাবা আরও জানান, সাহিল সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে আইআইটি মুম্বাইতে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। প্রথম বর্ষে তেমন কোনো সমস্যার মুখোমুখি হননি তিনি। তবে দ্বিতীয় বর্ষে ওঠার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। গত তিন মাসের লাগাতার হেনস্তার কারণেই সাহিল আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি পরিবারের।

সাহিলের মা বলেন, ‘আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁকে মারাত্মকভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।’

এ ঘটনায় সাহিলের বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বাই পুলিশ আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারে আইআইটি মুম্বাইয়ের পরিচালক শিরীষ বি কেদারে-সহ একাধিক অধ্যাপকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার দিন পরীক্ষার হলে পাহারার দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা। তাঁর বিরুদ্ধেও জাত তুলে সাহিলকে হেনস্তা করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনাটিতে তাঁদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে আইআইটি মুম্বাই কর্তৃপক্ষের দাবি, গত শুক্রবার পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে গিয়ে ধরা পড়েন সাহিল। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করে উত্তর পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি। এর কয়েক ঘণ্টা পর হোস্টেলের কক্ষ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কোর্স প্রশিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধান শিক্ষার্থীটির সঙ্গে কথা বলেন, তাঁকে কাউন্সিলিং প্রদান করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে এই ঘটনার প্রভাব তাঁর শিক্ষাজীবনে পড়বে না।

কর্তৃপক্ষ দাবি করে, এই আলোচনার পর সাহিল হোস্টেলে ফিরে যায় এবং সন্ধ্যায় তাঁকে নিজ কক্ষে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তবে কর্তৃপক্ষের এই দাবি মেনে নিতে নারাজ শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, সাহিলকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার (সাসপেনশন) করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে তাঁকে হোস্টেল ছেড়ে যেতে হতো এবং তাঁর পড়াশোনা চার বছরেরও বেশি সময় পিছিয়ে যেত। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের একাংশ আইআইটি মুম্বাই পরিচালকের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

তবে এক বছর সাসপেন্ড করার হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছে আইআইটি মুম্বাই কর্তৃপক্ষ।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, ইনস্টিটিউট প্রশাসন সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করছে না। এক আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছ থেকে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি দাবি করছি। এই ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা এটিই প্রথম নয়।’

এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত সাত মাসের মধ্যে আইআইটি বোম্বাই ক্যাম্পাসে এটি তৃতীয় আত্মহত্যার ঘটনা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হোস্টেল কক্ষ থেকে এক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল এবং জুলাই মাসে ২০ বছর বয়সী বিটেক দ্বিতীয় বর্ষের আরও এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ