খুলনা | সোমবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

অপ্রতিম হত্যা: আদালতে তিন আসামির দায় স্বীকার

খবর প্রতিবেদন |
১১:১২ পি.এম | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মলির আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

পুলিশ জানায়, অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার তিন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্ত শেষে আদালতে হাজির করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাদের মধ্যে প্রধান আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯)। অপর দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

এর আগে, গত শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় ১৩ বছর বয়সি অপ্রতিম। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের প্রায় ২০ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইসের পাশে দক্ষিণ সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলটি তার বাসা থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পাশাপাশি অপ্রতিমের সহপাঠী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালন করেন।

পুলিশের ভাষ্য, নিখোঁজের পর বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। পরে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম তুহিন প্রাপ্তবয়স্ক এবং অপর দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। এ ঘটনায় আরও একজন তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ, প্রত্যেকের ভূমিকা এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ