খুলনা | সোমবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা

দুপুরের পর আদালতে তোলা হবে গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রীকে

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৯ পি.এম | ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা ইসলামকে আজ আদালতে হাজির করা হচ্ছে। দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে মামলাটি করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরের পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে ঢাকার নিম্ন আদালতে পাঠানো হবে। এর আগে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে শেরেবাংলা নগর থানায় নেওয়া হয়েছিল।

মরিয়মের বাবার করা মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদা ইসলাম ছাড়াও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে মরিয়ম ঝুলছিলেন। ওই সময় দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করেছেন তার বাবা।

মরিয়মের বিছানার ওপর হাতে লেখা একটি চিঠি পাওয়া গেছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে নিজের দাম্পত্য জীবন ও মানসিক অবস্থার বিষয়ে কিছু কথা লিখেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। চিঠিটির প্রকৃততা ও এর সঙ্গে মৃত্যুর সম্পর্ক তদন্তের বিষয় বলে জানানো হয়েছে।

মরিয়মের বাবা এজাহারে উল্লেখ করেন, চলতি বছরের জুনে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের সঙ্গে ন্যাম ভবনের ওই বাসায় থাকতেন।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হতো। পরিবারের সদস্যদের কাছে মোবাইল ফোনে বিভিন্ন সময়ে তিনি এসব বিষয়ে জানিয়েছেন বলেও তার বাবা দাবি করেন।

মামলায় আরও বলা হয়, রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষ থেকে ফোন পেয়ে মরিয়মের বাবা দ্রুত ন্যাম ভবনের বাসায় যান। সেখানে গিয়ে তিনি মেয়েকে একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

মরিয়মের বাবার অভিযোগ, তার মামা ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার মেয়ের বিয়ে হয়। পরে স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রীর নির্যাতন এবং আসামিদের প্ররোচনার কারণে মরিয়ম আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনোটি এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলাটি তদন্তাধীন।

এর আগে গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়। ওই ভিডিওতে থাকা তরুণী মরিয়ম খাতুন বলে দাবি করেন গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি প্রকাশ্যে জানান, মরিয়ম তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তিনি তাকে বিয়ে করেছেন।

পরে মরিয়মের একটি বায়োডাটা প্রকাশ্যে আসাকে কেন্দ্র করে বিয়ের সময় ও তথ্য নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা তৈরি হয়। একই সময় ভিডিওটির সত্যতা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ও পাল্টা দাবি দেখা যায়।

২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছিল।

মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের দিনই পল্লবী থানার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের নথি বিচারিক আদালতে জমা দিয়েছিলেন গাজী নজরুল ইসলাম।

রোববার দুপুরে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিননামা দাখিল করেন। এর আগে ১০ আগস্ট হাইকোর্ট ওই মামলায় তাকে আট সপ্তাহের জামিন দেন।

গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান ২১ জুলাই পল্লবী থানায় মামলাটি করেন। এতে গাজী নজরুল ইসলাম ছাড়াও আমিনুর রহমান, মাসুম বিল্লাহ, মোতাসসিম বিল্লাহ ও রাকিবুল হাসানকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে ওবায়দুরকে মারধর এবং গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওবায়দুরের ভাগ্নির সম্পর্কের বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ