খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ মে ২০২২ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

বিএমএ খুলনার কাছে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ

প্যাথলজিস্টের স্বাক্ষর জাল করে খুলনা হেলথ গার্ডেনে ভুয়া রিপোর্ট : অপারেশন হলো না রোগীর

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:০৯ এ.এম | ২৫ জানুয়ারী ২০২২


খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে হেলথ গার্ডেন ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্যাথলজিস্ট-এর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রিপোর্টে ভুক্তভোগী এক রোগীর জীবন এখন সংকটে। ভুয়া রিপোর্টে তার অপারেশন হওয়ায় নতুন করে অসুস্থ পড়েছেন তিনি। এদিকে প্রতিকার ও বিচারের দাবি জানিয়ে বিএমএ খুলনার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন প্রতারণার শিকার হওয়া এই রোগী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নগরীর ফুলবাড়িগেট এলাকায় কুয়েট রোডের বাসিন্দা মোঃ মানিকুর রহমান গত এক মাস ধরে আবু নাসের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অপারেশন-এর জন্য তারিখ নির্ধারণ হয় গত ১৯ জানুয়ারি। অপারেশনের আগের দিন নিয়মিত পরীক্ষার জন্য বললে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে হেলথ গার্ডেন থেকে পরীক্ষাগুলো করান। সেখান থেকে তাকে বি পজেটিভ রিপোর্ট প্রদান করা হয়। অন্যান্য রিপোর্ট দেয়া হয় ইচ্ছামত। লাগবে তিন ব্যাগ বি পজেটিভ রক্ত, তার জন্য ডোনার ব্যবস্থা করে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার আগে রক্ত ক্রস ম্যাচিং-য়ে ধরা পড়ে রক্তের গ্র“প এ পজেটিভ। এটি জানাজানি হলে অন্য রিপোর্টে চিকিৎসকরা আস্থা হারিয়ে এবং রক্তের অভাবে তার অপারেশন বন্ধ করে দেয়। এতে এক মাস ধরে হাসপাতালে অবস্থান করার পরও অপারেশন করতে না পারায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। 
অভিযোগের পর হেলথ গার্ডেনে সরেজমিনে দেখা যায়, ডাঃ সাবিকুন্নাহার পলি নামে এক চিকিৎসকের স্বাক্ষরে রিপোর্টে দেয়া অভিযোগকারী রোগীকে। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডাঃ সাবিকুন্নাহার পলি অসুস্থ এবং চিকিৎসাধীন তার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। এ সময় হেলথ গার্ডেন-এর সিকিউরিটি গার্ড ইউসুফ-এর সাথে কথা হলে সে জানান আমি অপারেশন থিয়েটারে যাচ্ছি। অপারেশন থিয়েটারে আপনার কি কাজ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন আজ (সোমবার) অপারেশন হবে সেখানে লোক কম আছে, যে স্যার অপারেশন করবেন তার সাথে থাকতে হবে। এর আগেও একাধিকবার থেকেছি।
এদিকে ভুয়া রিপোর্ট প্রদানের পর হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রতিকার চেয়ে বিএমএ খুলনার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী মানিকুর রহমান। একই অভিযোগ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ও সিভিল সার্জন বরাবরও করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বিএমএ খুলনার সভাপতি ডাঃ শেখ বাহারুল আলম বলেন, বিএমএ চিকিৎসকদের নিয়ে কাজ করে। কোন চিকিৎসক-এর স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রিপোর্ট প্রদান করলে একদিকে চিকিৎসক-এর ক্যারিয়ার মারাত্মক হুমকিতে পরা ছাড়াও তার সুনাম নষ্ট হয়। অন্যদিকে ভুক্তভোগীর আর্থিক ও শারীরিক ক্ষতি হয়। বিএমএ খুলনা এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ