খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

পাইকগাছার কড়ুলিয়া সেতু নির্দিষ্ট সময়ে চালু হওয়া নিয়ে সংশয় : প্রশাসনিক নজরদারির দাবি

পাইকগাছা প্রতিনিধি |
১২:০৬ এ.এম | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খুলনার পাইকগাছা উপজেলার কড়ুলিয়া এলাকায় শিবসা নদীর ওপর ৭৪৮ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ প্রায় ৭৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিঃ (এনডিই) নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মিতব্য এ সেতুটি চালু হলে পাইকগাছাসহ আশপাশের পাঁচ উপজেলার সঙ্গে বিভাগীয় শহর খুলনার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। তবে কাজের গতি সন্তোষজনক হলেও ভারী যানবাহন চলাচলে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, সংযোগ সড়ক নিয়ে স্থানীয় আপত্তি এবং নির্দিষ্ট সময়ে তা শেষ করা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা আলোচনা ও সংশয়।
পাইকগাছা জিসি-লস্কর বাজার, বাইনতলা, বগুড়ারচক, শুড়িখালী, ভান্ডার পোল, গিলাবাড়ী জিসি সড়কের ২৩শ’ মিটার চেইনজে লস্কর ও গড়াইখালী ইউনিয়নের কড়–লিয়া গ্রামের শিবসা নদীর ওপর প্রায় পৌনে এক কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৯ দশমিক ৮ মিটার (৩২ ফুট) প্রশস্ত এ সেতুর কাজ চলমান রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে এর কাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে ২৪০টি পাইলের মধ্যে ২৪০টি শেষ হয়েছে এবং দুই পাড়ে প্রায় ২.৭১ একর জমি অধিগ্রহণের কাগজপত্র জেলা প্রশাসক (ডিসি) অফিসে পাঠিয়ে পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা চলতি বছরের শেষের দিকে কাজ সমাপ্ত হওয়ার আশা প্রকাশ করলেও মূল চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব না হওয়ায় আরও ছয় মাস সময় বাড়ানোর জন্য ইতিমধ্যে সকল কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান এক কর্মকর্তা।
পল্লী সড়ক (সিআইবিআরআর) প্রকল্পের এ সেতুটি চালু হলে পাইকগাছার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী কয়রা, দাকোপ এবং সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার মানুষ বিভাগীয় শহরের সঙ্গে দ্রুততম সময়ে যাতায়াত করতে পারবে। স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী শাহিন গোলদার জানান, ডাক্তার দেখাতে বা জরুরি কাজে খুলনা যেতে দীর্ঘ ভোগান্তি পোহাতে হয়। ভাটার সময় নদী শুকিয়ে যাওয়া এবং শিববাটী ব্রিজ দিয়ে ঘুরে যাওয়ার অতিরিক্ত সময় ও কষ্ট থেকে রেহাই মিলবে। ব্যবসায়ী সোলাইমান গাজী দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়ে বলেছেন, ব্রিজটি চালু হলে ঘেরের মাছসহ বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা সহজ হবে।
তবে কাজের দ্রুতগতির মধ্যেও স্থানীয় পর্যায়ে বেশ কিছু সংকট, অসন্তোষ ও প্রশাসনিক উদাসীনতার অভিযোগ রয়েছে। লস্কর ইউপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাকগুলো এই গ্রামীণ সড়কের উপযোগী নয়, ফলে রাস্তা নষ্ট হচ্ছে। বাইনতলা বাজারের সংযোগ সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এছাড়া গিলাবাড়ীর পরিবর্তে গড়াইখালীর সঙ্গে সংযোগ সড়ক হওয়ায় লস্করবাসী আশানুরূপ সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। অন্যদিকে স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, পাইকগাছায় এটি চতুর্থ সেতু হওয়ায় নদীতে পলি জমে নাব্যতা সংকট তৈরি হতে পারে এবং ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা বা বন্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
বাস্তবায়ন ও তদারকিতে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলছেন ভিন্ন কথা। প্রকল্প ম্যানেজার সাহেব আলী জানান, ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। উপজেলা প্রকৌশলী শাফীন সোহেব ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী সজল বিশ্বাস জানান, চলতি বছরের শেষের দিকে কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন তাঁরা এবং লস্করের পাড়ে তিন রাস্তার মোড়ে গোলচত্বর করে যোগাযোগ সহজ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসারা ওয়াসীউজ্জামান চৌধুরী জানান, একাধিক উপজেলা উপকৃত হওয়ার এ প্রকল্পটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ