খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

স্কোপাস ইনডেক্সড Q1 ও Q2 জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশে খুবি’র ৩৬ শিক্ষার্থীকে বিশেষ প্রণোদনা

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:২৫ এ.এম | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত Scopus ডাটাবেজে সূচিভুক্ত এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ভিত্তিক র‌্যাংকিংয়ে Q1 ও Q2 কোয়ার্টাইলে অবস্থানকারী জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের স্বীকৃতিস্বরূপ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ জন শিক্ষার্থীকে বিশেষ প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২২ জন Q1 এবং ১৪ জন Q2 জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও প্রকাশনায় উৎসাহিত করতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো এ ধরনের বিশেষ প্রণোদনা প্রদান করা হলো।
সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউআরপি লেকচার থিয়েটারে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কেন্দ্রের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রণোদনাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে অর্থের চেক ও সনদপত্র তুলে দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য বলেন, বিশ্বজুড়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্রমাগত তাদের গবেষণা ও মানসম্পন্ন প্রকাশনার পরিমাণ বাড়াচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান শুধু তার নিজের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে না; একই সময়ে বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও প্রকাশনায় কতটা এগিয়ে যাচ্ছে, তার ওপরও সেই অবস্থান নির্ভর করে। তাই শুধু নিজেদের আগের অবস্থানের তুলনায় ভালো করলেই হবে না, বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় যে গতিতে গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমাদেরও গবেষণার পরিমাণ ও গুণগত মান দু’টিই বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক অবদানের গুণগত মান ও পরিমাণ বাড়াতে শিক্ষক-গবেষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও গবেষণা ও প্রকাশনায় আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। শিক্ষকদের মানসম্পন্ন গবেষণা ও প্রকাশনাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আমরা মনে করেছি, শিক্ষার্থীদের গবেষণা প্রকাশনাকেও প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার আওতায় আনা জরুরি। সেই উপলব্ধি থেকেই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য এ বিশেষ প্রণোদনা চালু করা হয়েছে।
উপাচার্য আরও বলেন, একটি গবেষণামুখী বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলতে গবেষণাকে শুধু শিক্ষক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। শিক্ষাজীবন থেকেই শিক্ষার্থীদের গবেষণা, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রকাশনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত গবেষণা প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের দক্ষ গবেষক তৈরির পথও আরও সুগম হবে।
তিনি প্রণোদনাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই প্রণোদনা কেবল একটি গবেষণাপত্র প্রকাশের স্বীকৃতি নয়, বরং আরও উচ্চমানের, উদ্ভাবনী ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গবেষণায় সম্পৃক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা। ভবিষ্যতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও বেশি শিক্ষার্থী মানসম্পন্ন গবেষণা ও প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ নূরুন্নবী বলেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আরও উৎসাহী করে তুলতেই এ বিশেষ প্রণোদনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্রে শুধু প্রকাশনার সংখ্যা নয়, এর গুণগতমান, গবেষণামূল্য ও প্রায়োগিক গুরুত্বও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং তাঁদের সম্ভাবনাকে আরও বিকশিত করার মাধ্যমে ভবিষ্যতের দক্ষ গবেষক তৈরি করতে বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করছে। এ উদ্যোগ দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্যও একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গবেষণা ও উদ্ভাবনী কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. কাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রের যুগ্ম-পরিচালক প্রফেসর ড. খান মেহেদী হাসান।
প্রণোদনাপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের পিএইচডি শিক্ষার্থী প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাবের হোসেন এবং অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী সাবিহা তাসনিম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন গবেষণা ও উদ্ভাবনী কেন্দ্রের রিসার্চ অফিসার সাজ্জাদ হোসেন তুহিন।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, শিক্ষক, গবেষক এবং প্রণোদনাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ