খুলনা | বুধবার | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যা

খুবির সাবেক দুই শিক্ষার্থী ও দোকান মালিক গ্রেফতার, রিফাতের স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৫৯ এ.এম | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খুলনায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাবেক দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে তুলিশ। সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। 
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি বিভাগের ১৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী হাসনাত হাবিব রিফাত, এগ্রোটেকনোলজি বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী প্রতাপ সরকার এবং খানজাহান আলী হলের গেটের সামনে রুবেল জুস কর্নারের মালিক তারেক হাসান রুবেল। সোমবার রাতে পিরোজপুরের নেছারাবাদ থানার কুড়িয়ানা আদাবাড়ি গ্রাম থেকে রিফাতকে এবং মঙ্গলবার দুপুরে খানজাহান আলী হলের গেট থেকে রুবেলকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ান (এসআরবি-৬)। একই দিন বিকেলে বরিশালের উজিরপুর থেকে প্রতাপকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাজমুল হক জানান, মঙ্গলবার রাতে হাসনাত হাবিব রিফাত মারধরের ঘটনায় নিজের অংশগ্রহণের কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। খুলনা মহানগর হাকিম-৪ আদালতের বিচারক ইব্রাহিম খলিল তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা জানান, হাসনাত হাবিব রিফাত ও প্রতাপ ওই মেসেই আজমুলের সঙ্গে থাকতেন। ঘটনার রাতে তারা মারধরে অংশ নেন। খবর পেয়ে রুবেলও মেসে গিয়ে আজমুলকে মারধরে অংশ নেন বলে কর্মকর্তারা জানান।
এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান, হত্যার পর থেকেই এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে সন্দেহভাজনদের আটকের সহযোগিতা চাওয়া হয়। রিফাত ও রুবেলকে আটক করে হরিণটানা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার আহাদুজ্জামান মিয়া জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বরিশালের উজিরপুরে প্রতাপের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে তাকে আটক করা হয়েছে। তাকে খুলনায় এনে হরিণটানা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
হরিণটানা থানার ওসি ইকবাল হোসেন বলেন, আজমুলকে মারধরের সময় রিফাত, রুবেল ও প্রতাপ উপস্থিত ছিলেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে চুরির অপবাদ দিয়ে মেস ভবনের চতুর্থ তলা ও ছাদে নিয়ে আজমুলকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি চারতলা ভবনের ছাদ থেকে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। তিনি ছাদ থেকে লাফ দিয়েছেন, নাকি তাকে মেরে ফেলে দেওয়া হয়েছে-তা তদন্ত করছে পুলিশ। এ ঘটনায় আজমুলের বাবা কুতুব উদ্দিন বাদী হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও ২৫ জনকে আসামি করে হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেন। এদিকে আজমুল হত্যার বিচার দাবিতে মঙ্গলবার আদালত চত্বরে প্রতীকী মব কর্মসূচি ও মানববন্ধন করেছেন তার সহপাঠীরা। এ সময় তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ