খুলনা | বুধবার | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে লিফট নেই, দুর্ভোগে আবাসিক শিক্ষার্থীরা

মেহেদী হাসান, খুবি |
০২:৩৩ এ.এম | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬য় তলা বিশিষ্ট বীরশ্রেষ্ঠ  মোহাম্মদ রহুল আমিন হল ও বিজয় ২৪ হলে লিফট না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছে আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ৬য় তলা ভবনে সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করায় আবাসিক  শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লান্তি ও সময় অপচয়ের মধ্য দিয়ে ক্লাসসহ নানা কাজে যেতে হচ্ছে। ফলে দ্রুত লিফট দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
আবাসিক শিক্ষাথীদের  সাথে কথা বলে জানা যায় ছয় তলার এই হল গুলোতে  ওঠা-নামা করা প্রতিদিনের এক মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে তাদের।  বিশেষ করে এখন গরমে  ক্লাস শেষ করে হলের ৬য় তলায়  উঠতে গিয়ে অনেক কষ্ট হয় বলে জানিয়েছেন  আবাসিক শিক্ষার্থীরা।  
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং হলের ৫ম তলার আবাসিক শিক্ষার্থী মোঃ নাঈম বিশ্বাস বলেন, একবার নিচে নামলে আর ৫ম তলায় উঠতে ইচ্ছা হয় না। অনেক জরুরি  প্রয়োজন থাকলেও শুধু এই সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে হয় বলেই নামতে ইচ্ছা হয় না।  প্রতিদিন আমাদের চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে, আমরা খুব দ্রুতই হলে লিফটের ব্যবস্থা  চাই। 
নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা (টজচ) ডিসিপ্লিনের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং হলের ষষ্ঠ তলার আবাসিক শিক্ষার্থী দেবার্গ সাহা বলেন বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রহুল আমিন  হলটি প্রথমে চার তলা বিশিষ্ট ছিল, পরবর্তীতে এটি ৬য় তলা করা হয়। যখন ভবনটি ছয় তলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়,তখনই প্রশাসনের উচিত ছিল লিফটের সঠিক ব্যবস্থা রাখা। দিনে ক্লাস খাওয়া দাওয়া ও টিউশন মিলিয়ে অন্তত ৪-৫ বার সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করতে হয়, যা অত্যন্ত কষ্টকর। পরিকল্পনার অভাবেই আজ লিফট নেই। আমরা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা এখানে জরুরি ভিত্তিতে লিফটের প্রয়োজনীয়তা বোধ করছি। 
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপি¬নের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ও বিজয় ২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সুইটি দে বলেন, আমাদের বিজয়-২৪ হলের ভবন ছয় তলা হওয়ায় লিফট না থাকাটা প্রতিদিনই একটা বড় ভোগান্তির বিষয়। বিশেষ করে ওপরের তলায় যারা থাকি, তাদের বারবার সিঁড়ি দিয়ে ওঠা-নামা করতে হয়। ক্লাস বা বাইরে থেকে হলে ফিরে অনেক সময় ক্লান্ত অবস্থায় কয়েক তলা সিঁড়ি ভেঙে রুমে উঠতে হয়। আবার ভারী ব্যাগ, বাজারের জিনিস বা ল্যাগেজ নিয়ে ওঠার সময় সমস্যাটা আরও বেশি হয়। অসুস্থ থাকা অবস্থায় বা জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত নিচে নামার দরকার হলেও তখন সিঁড়ি ছাড়া কোনো বিকল্প থাকে না। লিফট থাকলে শুধু আমাদের দৈনন্দিন ওঠানামার কষ্ট কম হতো না পাশাপাশি  সময়ও বাঁচত এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চলাচল করা সহজ হতো। ছয় তলা ভবনে এতগুলো শিক্ষার্থী থাকায় আমাদের জন্য লিফট এখন খুবই প্রয়োজন। 
এ বিষয়ে  বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রহুল  আমিন হলের  প্রোভোস্ট প্রফেসর ড. শফিকুল ইসলাম বলেন, হলে অবশ্যই লিফটের প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে ৫ম  ও ৬ষ্ঠ  তলায় যেসব শিক্ষার্থী থাকেন, এই তীব্র গরমে দুপুরে ক্লাস শেষ করে হলে ফেরার পর তাদের ওপরের উঠতে অনেক কষ্ট হয়। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে আমরা খুব দ্রুতই হলে লিফটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করবো। 
বিষয়টি নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুনুর রশীদ খান বলেন, ৬য় তলা এই  হলগুলো লিফট ছাড়া কীভাবে নির্মাণ করা হলো, এটাই সবচে চিন্তার বিষয়। তবে বীরশ্রেষ্ঠ মোহাম্মদ রহুল  আমিন হল ও বিজয় ২৪ হলে  নিঃসন্দেহে লিফট দরকার। এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন  বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান যে নিজস্ব বাজেট রয়েছে, তা দিয়ে হলের লিফট স্থাপন করা সম্ভব নয়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে খুব দ্রুতই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাথে কথা বলব এবং লিফট স্থাপনের জন্য নতুন বাজেট বরাদ্দ চাইব।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ