খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ মে ২০২২ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

পুলিশের ‘বাধায়’ শহিদ মিনারে ছাত্রদলের অনশন পণ্ড

খবর প্রতিবেদন |
০১:৩৯ এ.এম | ২৬ জানুয়ারী ২০২২


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ‘হামলার’ প্রতিবাদে এবং উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ছাত্রদলের প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পুলিশের বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রতীকী অনশন শুরু করেন ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। বিকেল ৩টা পর্যন্ত তাদের এ কর্মসূচি চলার কথা ছিল। কিন্তু দুপুর পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে অভিযোগ করেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি বলেন, “পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশাল ফোর্স নিয়ে বাধা দিয়েছে, ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। কাউকে আটক করেনি, কিন্তু কয়েকজনকে লাঠিপেটা করেছে। “আমরা বিকাল ৩টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে সেখানে প্রতীকী অনশন করতে চেয়েছিলাম। শান্তিপূর্ণ এমন কর্মসূচিতে পুলিশের বাধার তীব্র নিন্দা জানাই আমরা।”
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শাহবাগ থানার ওসি মওদূত হাওলাদার বলেন, “আমরা কোনো বাধা দিইনি। নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত ফোর্স আনা হয়েছিল। তাদেরকে আমরা অনুরোধ করেছি, বিষয়টা দ্রুত শেষ করার জন্য। কোনো বলপ্রয়োগ করা হয়নি। পরে তারা দ্রুত সময়ে কর্মসূচি শেষ করে দিয়েছে।"
এর আগে অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ছাত্রদল সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বলেন, “শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে তাদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রতীকী অনশনে বসেছি। তাদের প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। “দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অমানবিক ভিসির পদত্যাগ দাবি করছি আমরা। আমাদের আজকের এই অনশন কর্মসূচি বিকেল ৩টা পর্যন্ত চলবে এবং যতদিন পর্যন্ত ভিসি পদত্যাগ না করবেন ততদিন আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম চলবে। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নামে পুলিশের দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান তিনি।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির নির্দেশে বর্তমান সরকারের পেটুয়া বাহিনী পুলিশ লীগ, ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
“ভিসি মানে শিক্ষক এবং শিক্ষক মানে অবিভাবক। কিন্তু শাবিপ্রবির ভিসি অভিভাবকসুলভ আচরণ না করে যে  স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন, তার বিচার ও তার অপসারণের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনশনে সংহতি জানিয়ে আমরা এখানে বসেছি।” অন্যদের মধ্যে ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ঢাবি শাখার আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সদস্য সচিব আমানউল­াহ আমানসহ কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ও অন্যান্য ইউনিটের শতাধিক নেতা-কর্মী কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ