খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

বাগেরহাটে ভ্যান চালকের চোখে আঘাত করার অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক, বাগেরহাট |
১২:৫০ এ.এম | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনায় মোঃ রবিউল ইসলাম নামের এক ভ্যান চালককে মারধর ও চোখে চাবি দিয়ে আঘাতের অভিযোগ উঠেছে পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় দুই দিন পার হয়ে গেলেও কোন পক্ষ থানায় অভিযোগ দেয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ভ্যানচালক রবিউল ইসলাম জানান, গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মোরেলগঞ্জ ফেরিঘাটের বারুইখালী অংশের রাস্তায় ভ্যান রাখাকে কেন্দ্র করে আসাদুজ্জামান মিলনের লোকজনের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন গাড়ির চাবি দিয়ে ভ্যানচালক রবিউলের চোখে আঘাত করে। মিলনের সাথে থাকা তার আপন ভাইসহ কয়েকজন স্থানীয় মানুষ ভ্যানচালকদের মারপিট করে। এ ঘটনায় দুই ঘন্টার মত মোরেলগঞ্জে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল।তবে পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কেউ কোন অভিযোগ দিতে সাহস পায়নি। 
রবিউল আরও বলেন, ‘আমি গরীব মানুষ। আমরা কোন ঝামেলা চাই না। আমি শুধু আমাকে মারার বিচার চাই। আর একটু হলে হয়ত আমার চোখই নষ্ট হয়ে যেত। তাহলে আমি কি করে খেতাম।’
এ দিকে এ ঘটনায় মিলনের বিচারের দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার বারইখালী ফেরিঘাট এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয়রা। মানববন্ধনে ভ্যানচালক মিজান হাওলাদার, এনাম ফকির, জাহিদ খান, শিমুল কাজী,  রবিউল কাজী, আসলাম হোসেন, সোহেল কাজী, শরিফুল শেখ, এমদাদুল তালুকদার, আলম  শেখ, রুস্তম তালুকদার, পলাশ কাজী, শাওন শেখ, সাদ্দাম শেখ, রফিকুল মাতুক্বার, লুতফার হাওলাদার, মিরাজ তালুকদার, চম্পা বেগমসহ স্থানীয়রা অংশগ্রহণ করেন। 
মানববন্ধনকারীরা জানান, মোরেলগঞ্জ পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বিএনপি’র নাম ভাঙিয়ে তাদেও ৯ ভাইয়ের ঐক্যবদ্ধ সন্ত্রাসের ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে সাধারণ জনতা। তাদের ভয়ে এলাকায় মুখ খুলতে সাহস পায় না কেউ। এদের অপশক্তির কাছে নষ্ট হতে চলেছে ভ্যানচালক রবিউলের চোখ। রাস্তার পাশে ভ্যান রাখাকে কেন্দ্র করে সে যতটা নোংরামি করেছে, তাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। দ্রুত মিলনের বিচার দাবি করেন মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা।
এদিকে চাবি দিয়ে আঘাতের বিষয়ে জানতে চাইলে মোরেলগঞ্জ পৌর বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিলন বলেন, কৃষক দল নেতা কবির ও বিএনপি নেতা রমজান লোকজন নিয়ে তার ছোট ভাই ইলিয়াসকে মারধর করে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে থাকা কবির, রমজানসহ ভ্যান চালকদের গালিগালাজ করেন। তবে তিনি কারও গায়ে হাত তোলেনি।
আসাদুজ্জামান মিলন আরও বলেন, এ ঘটনায় কবির ও রমজানকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছিল। পরে তিনি তাদেরকে ছাড়িয়ে এনেছেন। এছাড়া যেহেতু সবাই দলের লোক তাই আপষের মাধ্যমে এই ঝামেলার সমাধান করার জন্য দলীয় নেতারা বলেছেন। দু-একদিনের মধ্যে এর সুরাহা হবে।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহিদুল্লাহ বলেন, ‘এ ঘটনায় দুই পক্ষের কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। তবে শুনেছি তারা নিজেরা-নিজেরা শালিস মীমাংসার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করবেন।’ 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ