খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

খুলনায় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী ড. ফরিদুল ইসলাম

প্রতিটি স্কুলকে প্লাস্টিক ও পলিথিনমুক্ত করতে হবে : পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০২:৩০ এ.এম | ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


স্কুল থেকেই পলিথিন ও প্লাস্টিক বিরোধী আন্দোলনে শিশুদের নেতৃত্ব দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, প্রতিটি স্কুলকে প্লাস্টিক ও পলিথিনমুক্ত করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় শুধু সভা-সমাবেশ বা প্রকল্প গ্রহণ নয়, শিশুদের নিজেদের পরিবার ও সমাজে পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
বুধবার বিকেলে খুলনা নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে ষষ্ঠ বার্ষিক উপক‚লীয় শিশু জলবায়ু সম্মেলনের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বেসরকারি সংস্থা জাগ্রত যুব সংঘ (জেজেএস) ও উপকূলীয় শিশু ফোরাম যৌথভাবে দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘দেশ অনেক দূষিত হয়ে গেছে। এখনই এর লাগাম টেনে ধরতে হবে।’ সুন্দরবনে প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে প্রবেশ বন্ধের কথা উল্লেখ করে তিনি পলিথিনের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি বিকল্প হিসেবে কাপড় ও পাটের ব্যাগ ব্যবহারে অভ্যাস গড়ে তোলার আহবান জানান।
শিশুদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু মঞ্চে পরিবেশ নিয়ে বক্তব্য দেওয়া বা প্রকল্প উপস্থাপন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। নিজেদের জীবনেও পরিবেশবান্ধব কর্মকান্ডের প্রতিফলন ঘটাতে হবে। বাজারে যাওয়ার সময় পলিথিনের পরিবর্তে কাপড় বা পাটের ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে। পরিবেশ রক্ষার কথা বলে নিজেরাই পলিথিন ব্যবহার করলে সেই অঙ্গীকারের কোনো মূল্য থাকে না।
উপক‚লীয় অঞ্চলের অন্যতম বড় সমস্যা সুপেয় পানির সংকট উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় গ্রামের পুকুরের পানি মানুষ পান করত। কিন্তু দূষণ ও নানা রোগ-জীবাণুর কারণে এখন পুকুরের পানি ব্যবহারে ঝুঁকি বেড়েছে। তাই পুকুরগুলোকে নিরাপদ পানির উৎস হিসেবে সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা বাড়াতে হবে।
ইটভাটার দূষণ প্রসঙ্গে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে সাত হাজার ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৭০০টি বৈধ এবং বাকিগুলো অবৈধ। ইটভাটাগুলো পর্যালোচনা করে কোনগুলো বৈধতার যোগ্য, কোনগুলো সংশোধনের সুযোগ পাবে এবং কোনগুলো বন্ধ করতে হবে-তা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ইটভাটার কারণে শুধু বায়ুদূষণই হচ্ছে না, কৃষিজমির উর্বর মাটিও নষ্ট হচ্ছে। এ কারণে ধাপে ধাপে পোড়ানো ইটের ব্যবহার কমিয়ে ব্লকের ব্যবহার বাড়াতে হবে। স্থানীয় সরকার প্রকল্পে অপ্রয়োজনে পোড়ানো ইট ব্যবহার করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় প্রকৃতিনির্ভর সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার, বায়োগ্যাস উৎপাদন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃক্ষরোপণ ও খাল পুনঃখননের মতো উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেন। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সম্মেলনে শিশুদের পরিবেশবান্ধব চিন্তা ও উদ্ভাবনী প্রকল্পের প্রশংসা করে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, পুরস্কার পাওয়া বড় বিষয় নয়; সম্মেলন থেকে অর্জিত জ্ঞান ও ধারণা পরিবার এবং উপক‚লীয় সমাজে বাস্তবায়ন করাই প্রকৃত সাফল্য। শিশুদের নেতৃত্বেই পরিবেশ রক্ষার সামাজিক আন্দোলন আরও শক্তিশালী হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ, খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, কনসার্ন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনীশ কুমার আগরওয়াল এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ নজমুস সাদাত।
সম্মেলনের সমাপনী বক্তব্য দেন সম্মেলন সমন্বয়ক ও জেজেএসের নির্বাহী পরিচালক এ টি এম জাকির হোসাইন। পরে শিশু ফোরামের নূর আহমাদ জিদান ও নওশিন ইসলামের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের সমাপ্তি হয়। সমাপনী পর্বে উপক‚লীয় শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে সুরক্ষা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিশুদের অংশগ্রহণ এবং জলবায়ু কার্যক্রমের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানায়। শিশুদের পক্ষে বক্তব্য দেন রোজ বৈরাগী, মুন মন্ডল, দিশা মজুমদার, মনিরা সুলতানা রূপা ও আয়শা আক্তার মেঘলা।
সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের বিভিন্ন অধিবেশনে জলবায়ু পরিবর্তনে উপক‚লীয় শিশুদের জীবনসংগ্রাম, জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি, জলবায়ু অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রবেশাধিকার এবং কপ-৩১ সম্মেলনে শিশুদের প্রত্যাশা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয়, উন্নয়ন সংস্থা ও নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সম্মেলনে জানানো হয়, আগামী নভেম্বরে তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য কপ-৩১ সম্মেলনে খুলনা শিশু ফোরাম থেকে নওশিন ইসলাম ও নূর আহমাদ জিদানের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
শিশু প্রতিনিধিরা বলেন, ‘আমরা শুধু ভবিষ্যৎ নই, আমরা উন্নয়নের অংশীদার। আমরা চাই, আমাদের কথা শোনা হোক এবং সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হোক। কপ সম্মেলনেও আমাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।’

প্রিন্ট

আরও সংবাদ