খুলনা | শুক্রবার | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

কয়রায় দেড় যুগেও নির্মাণ হয়নি আইলা বিধ্বস্ত বাঁধ, ড্রামের ভেলায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার শিক্ষার্থীদের

কয়রা প্রতিনিধি |
১২:২০ এ.এম | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খুলনার কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়া বদ্ধ নদীর তীরে প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কের বাঁধ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে নির্মাণ না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও  বাসিন্দারা। যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানে স্থায়ী বাঁধ ও সড়ক না থাকায় এলাকাবাসীকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বাধ্য হয়ে ড্রামের তৈরি ভেলার ওপর ভর করে পারাপার চলছে।
গত ২০০৯ সালে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আইলায় কয়রার উপকূল রক্ষা ভেড়িবাঁধ লন্ডভন্ড করে দেয়। এতে প্লাবিত হয় কয়রার ৭টি ইউনিয়ন। উপজেলার অন্য  ইউনিয়নে ভেড়িবাঁধ মেরামত করা সম্ভাব হলেও  বড় আকার ধারণ করা মহারাজপুর ইউনিয়নের পবনা নামক স্থানের বাঁধ তাৎক্ষণিক  মেরামত সম্ভব হয়নি। যার ফলে পানি প্রবাহের কারণে এসব স্থান বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেড়িবাঁধ ভেঙে ভেতরে পানি প্রবেশের সাথে সাথে ভেতরের সব রাস্তা মুহূর্তেই মিশে যায় পানির সাথে। এর মধ্য উপকূল রক্ষার সকল স্থানে  বাঁধ দিতে পারলেও এখনো সম্ভব হয়নি প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন শাকবাড়িয়া বদ্ধ নদীর বাঁধ। 
সরেজমিন দেখা গেছে, প্রায় ১৭০ মিটারের ভাঙনটি দেখতে একটি নদীর মতো, যেখানে ছিল একটি রাস্তা আজ সেখানে নদীতে রূপ নিয়েছে। বাঁধের ভাঙা স্থানের ওপারে  রয়েছে একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিক। বাঁধের এপার থেকে ওপারে একটি রশি বাধা আছে আর সেই রশি ধরে টেনে টেনে  শিশুরা  পার হয়ে স্কুলে যাচ্ছে ড্রামের ভেলায়। রাস্তা বা স্থায়ী কোন সেতুর ব্যবস্থা না থাকায় যেখানে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে কোমলমতী শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে ড্রামের ভেলায় চড়ে ওপারে স্কুলে যেতে হয়।
প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহসিন বলেন, এই স্থান  দিয়ে আমাদের প্রতিদিন ড্রামের ভেলা চড়ে পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। পরানডা ভয়ে কাপে কখন না যানি উল্টে যায়। যেকনো ভাবেই আমাদের স্কুলে যাওয়ার জন্য রাস্তাটি মেরামত করা জরুরী।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের  শিক্ষার্থী সাদিয়া  বলেন, ‘ড্রামে চড়ে ওপারে স্কুলে যেতে খুব ভয় হয়। একবার ভেলা উল্ডে নদীতে পড়ে গিয়েছিলাম।  আমাদের বইয়ের ব্যাগ ও সব ভিজে যায়। পাশে লোকজন থাকায় কোন মতে জীবনটা রক্ষা হয় আমাদের। আমরা চাই এখানে একটা রাস্তা হোক আমরা যাতে ভালো ভাবে স্কুলে যেতে পারি।’
স্থানীয়দের বাসিন্দাদের ভাস্য , দীর্ঘদিন ধরে বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়ে এলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষার সময় নদীর পানি বেড়ে গেলে সড়কের ওই অংশটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও প্রাথমিকের  শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে পারাপারের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। তারা বলেন, একটি স্থায়ী বাঁধ ও নিরাপদ সড়ক নির্মাণ করা হলে কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও কমবে।
বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক রণজিৎ কুমার মন্ডল বলেন, ২০০৯ সালে আইলায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত এখানে একটি বাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি।  প্রতিনিয়ত বাচ্ছাদের ঝুঁকি নিয়ে ড্রামের ভেলায় পারাপার হতে হয়। শাকবড়িয়া বন্ধ নদীর বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
মহারাজপুর ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু সাঈদ বলেন, ১শ’ ৭০ মিটারের বেশি এই ভাঙায় ইউনিয়ন পরিষদের সামান্য  বরাদ্দ দিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। এখানে গভীরতাও অনেক বেশি । খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে বলা হবে।
পাউবো খুলনার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ সুলতান মাহমুদ বলেন, প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বাঁধটি পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বরাদ্দের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ