খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৬ মে ২০২২ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

দুই কিশোরীকে ধর্ষণের ভিডিও ছড়ানোয় বৃদ্ধের ১৪ বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা

খবর প্রতিবেদন |
০১:২১ এ.এম | ২৭ জানুয়ারী ২০২২


দুই কিশোরীকে ধর্ষণের পর সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইলে ছড়িয়ে দেওয়ার অপরাধে এক বৃদ্ধকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ১০ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুরে রাজশাহী সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ জিয়াউর রহমান এই রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামির নাম আল-আমিন ওরফে আকিল। সে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার চান্দাই গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৬ সাল এই মামলাটি করা হয়। মামলার পাঁচ বছর পর আসামির অনুপস্থিতিতেই এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এড. ইসমত আরা। মামলার দায়েরের সময় ওই বৃদ্ধের বয়স ছিল ৬০ বছর।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে কবিরাজি চিকিৎসার নামে ঘরে নিয়ে কৌশলে ধর্ষণ করে আল-আমিন। এরপর একাধিকবার কৌশলে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে সে। একই বছরের ১৫ নভেম্বর ১৩ বছরের আরেক কিশোরীকে কৌশলে কবিরাজি চিকিৎসার নামে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের সেই ভিডিও ধারণ করে রাখে সে। ঘটনা কাউকে জানালে দুই কিশোরী মারা যাবে বলে তাদের ভয় দেখানো হয়। পরে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চাপ দেয়। পরে তারা না গেলে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন ব্যক্তির মোবাইলে ছড়িয়ে দেয়।
আইনজীবী ইসমত আরা জানান, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ভুক্তভোগী এক কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন। পুলিশ তদন্ত করে নাটোরের আদালতে আল-আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এরপর নাটোরের আদালত থেকে তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ধারার অংশটির বিচারের জন্য ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। পরে রাজশাহীতে সাইবার ট্রাইব্যুনাল গঠন হলে এটি এখানে আসে। এখানে ৯ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।
তিনি আরও জানান, রাজশাহীর আদালতে শুধু ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার বিচার হলো। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার বিচার চলছে নাটোরের আদালতে। সে মামলার রায় এখনও হয়নি।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ