খুলনা | শনিবার | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় জাতিসংঘের যুগান্তকারী ঘোষণা

খবর প্রতিবেদন |
০৭:৪৫ পি.এম | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, বরফের চাদর ও হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এখন নিচু দ্বীপদেশগুলোর অস্তিত্বের জন্য এক ভয়ংকর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ভয়াবহ সংকট মোকাবিলায় এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে রক্ষায় আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতভাবে একটি নতুন প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ।

বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৬ মিলিমিটার বেড়েছে, যা এক বছরে এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। জাতিসংঘ সতর্ক করে জানিয়েছে, এখনই কার্বন নিঃসরণ কমানোসহ বড় ধরনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বা তারও বেশি বেড়ে যেতে পারে, যা উপকূলীয় অঞ্চলের ভৌগোলিক চিত্র চিরতরে পাল্টে দেবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই সংকটের মানবিক বিপর্যয়ের দিকটি তুলে ধরে বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মিলিমিটারে মাপা হয়। কিন্তু এর ক্ষয়ক্ষতি মাপা হয় লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হওয়া, জনপদ উচ্ছেদ এবং ভবিষ্যৎ হারানোর মধ্য দিয়ে।’ বিশ্বকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দেশ ও সংস্কৃতিগুলোকে ঢেউয়ের নিচে হারিয়ে যেতে দিতে পারি না। কোটি কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষাকেও আমরা পানিতে ডুবে যেতে দিতে পারি না।’

জাতিসংঘের এই নতুন ঘোষণায় গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে অর্থায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সবচেয়ে যুগান্তকারী দিকটি হলো, সমুদ্রের ঢেউয়ের নিচে কোনো দেশ ধীরে ধীরে বিলীন হতে শুরু করলে তার আইনি সমাধান কী হবে, তা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

ঘোষণায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলরেখা পিছিয়ে গেলেও কোনো দেশের সামুদ্রিক সীমানা বহাল থাকবে। একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর ভূখণ্ডের মতো কোনো মৌলিক উপাদান পানিতে তলিয়ে গেলেও তার রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বাতিল হয়ে যাবে না।

ছোট দ্বীপদেশগুলোর জোট ‘অ্যালায়েন্স অব স্মল আইল্যান্ড স্টেটস’-এর পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট সুরাঙ্গেল হুইপস জুনিয়র জাতিসংঘের এই ঘোষণাকে ‘একটি সত্যিকারের অর্জন’ হিসেবে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব রাষ্ট্রের অস্তিত্বের সংজ্ঞা তাদের চারপাশের সমুদ্রই নির্ধারণ করে, তাদের জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি জীবন বদলে দেওয়ার মতো মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালের ‘মালে ঘোষণার’ পর থেকেই এই ছোট দ্বীপদেশগুলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করে আসছে এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ