খুলনা | শনিবার | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১০ আশ্বিন ১৪৩৩

নেই বাজার দর মনিটরিং ব্যবস্থা # ৫০ টাকার নিচে মিলছে না সবজি # ডিমের মূল্য হালিপ্রতি বাড়তি অন্তত ৮ টাকা

ভোজ্য তেলসহ ডিম, মুরগি ও সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার বেসামাল

আল মাহমুদ প্রিন্স |
১২:৫২ এ.এম | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খুলনায় ভোজ্য তেলসহ ডিম, মুরগি ও সবিজসহ নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার বেসামাল হয়ে উঠেছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি চালের মূল্য দুই থেকে তিন টাকা, মশুর ডাল অন্তত আট টাকা, ব্রয়লার, কক, সোনালী লেয়ার ও লেয়ার লালচে ১৫ থেকে ১৬ টাকা, সবধরনের সবজি অন্তত আট টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। হালিপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে আট টাকা। অধিক মুনাফার আশায় মিলারদের কারসাজিতে চালের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এমনই মন্তব্য করেছেন বড় বাজারের একাধিক চাল ব্যবসায়ী। পাইকারী দামের তুলনায় খুচরায় দাম অনেক বেশি। বাজারদর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামত দাম বাড়িয়ে দিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস ও পণ্যের। এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে নি¤œ ও মধ্য আয়ের মানুষ। 
শুক্রবার নগরীর সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় কেসিসি পাইকারী বাজারে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, রসুন ৫০ থেকে ৬০ টাকা, চায়না রসুন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, সাদাটে আলু ১৫ থেকে ১৬ টাকা, লালচে আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা, কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৭০  টাকা, কুশি ৪০ টাকা, ঝিঙে ৩০ থেকে ৩২ টাকা, উচ্ছে ৩০ টাকা, পটল ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা, ঢেঁড়শ ৪০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, কাকরল ৪০ টাকা, বরবটি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, খিরই ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
অথচ, খুচরা বাজারগুলোতে প্রতিকেজি পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, চায়না রসুন ২০০ টাকা, সাদা আলু ২৫ টাকা, লাল আলু ২৫ টাকা, কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, কুশি ৫০ টাকা, ঝিঙে ৫০ টাকা, উচ্ছে ৫০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৫০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, কাকরল ৫০ টাকা, কচুরমুখি ৪০ টাকা, খিরই ৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, বরবটি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। চালের মূল্য কেজিপ্রতি বেড়েছে অন্তত দুই থেকে তিন টাকা। নগরীর বড় বাজারে প্রতিকেজি চাল স্বর্ণা ৪০ থেকে ৪২ টাকা, ২৮ বালাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, মিনিকেট ভালোমানের ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, নি¤œমানের ৫৪ থেকে ৫৬ টাকা, বাসমতি ৮০ থেকে ৮২ টাকা, কালোজিরা ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অথচ, খুচরা বাজারগুলোতে প্রতিকেজি চাল স্বর্ণা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ২৮ বালাম ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মিনিকেট ভালোমানের ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, মিনিকেট নি¤œমানের ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, বাসমতি ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, কালোজিরা ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
মশুর ডালের মূল্য বেড়েছে অস্বাভাবিক। মশুর ডাল (মোটা) কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মশুর ডাল (চিকন) ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
কমছে না সবধরনের মুরগির দাম। শুক্রবার নগরীর ময়লাপোতা মোড়স্থ কেসিসি সন্ধ্যা বাজার ও রূপসা এ্যাপ্রোচ রোডস্থ কেসিসি মার্কেটে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬৫ টাকা, কক ২৬০ টাকা,  সোনালী মুরগি ২৬০ টাকা, লেয়ার লালচে ৩৮০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে।  বেড়েছে ডিমের দাম। প্রতিহালি লেয়ার মুরগির ডিম ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, লালচে ডিম ৫২ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
জট খুলছেনা গরু ও খাসির মাংসের দাম। বছরের পর বছর অপরিবর্তিত অবস্থায় রয়েছে গরু ও খাসির মাংসের দাম। নগরীসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের বাজারগুলোতে প্রতিকেজি গরুর মাংস ৭৫০ টাকা, খাসির মাংস ১২০০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
ভোজ্য সয়াবিন তেলের বাজার একেবারে বেসামাল। খুচরা বাজারগুলোতে ভোজ্য সয়াবিন ফ্রেশ (৫ লিটার) বিক্রি হচ্ছে এক হাজার টাকা, ফ্রেশ (৫ লিটার) এক হাজার টাকা, তীর (৫ লিটার) এক হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিলিটার সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে কমপক্ষে ২০০ টাকা। এছাড়া লুজ সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২১২ টাকা দরে। 
সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় কেসিসি পাইকারী বাজারের মেসার্স ভাই ভাই বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী নান্নু বিশ্বাস বলেন, চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজ ও রসুনের আমদানী আছে। তিনি আরো বলেন, নাটোর, মেহেরপুর, পাবনা, শৈলকূপা, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর এলাকার চাষিরা ট্রাক টার্মিনাল পাইকারী কাঁচাবাজারে চাহিদা মেটায়। 
নগরীর বড় বাজারে মেসার্স অন্নপূর্ণা ট্রেডার্সের মালিক সুজিত সাহা বলেন, চালের বাজার স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে।  নগরীর ময়লাপোতাস্থ কেসিসি সন্ধ্যা বাজারে মেসার্স জলিল এন্টারপ্রাইজের মালিক জলিল হাওলাদার বলেন, মুরগির দাম কিছুটা বাড়তি। নগরীর রূপসা এ্যাপ্রোচ রোডস্থ কেসিসি মার্কেটে মেসার্স খালিদ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মোঃ ডালিম বলেন, চালের বাজার অপরিবর্তিত থাকলেও অন্যান্য পণ্য ও জিনিসের মূল্য বাড়তি।  

প্রিন্ট

আরও সংবাদ