খুলনা | শনিবার | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

চিতলমারী সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ৮টি জাল দাখিলা জব্দ : জমি রেজিষ্ট্রি স্থগিত

চিতলমারী প্রতিনিধি |
০২:২৩ পি.এম | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাগেরহাটের চিতলমারী সাব-রেজিষ্ট্রার কর্মকর্তা সমীর কর্মকার ৮টি অনলাইন জাল দাখিলা (ভূমি উন্নয়ন করের রশিদ) জব্দ করেছেন। জমি রেজিষ্ট্রি করতে দেওয়া একটি নথি থেকে তিনি এসব দাখিলা জব্দের পর জাল বলে সনাক্ত করেন। ওই নথিটি দলিল লেখক মুন্সি দেলোয়ার হোসেন সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে দাখিল করেছিলেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় চিতলমারী উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রার সমীর কর্মকার এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাব-রেজিষ্ট্রার সমীর কর্মকার আরও জানান, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তিনি চিতলমারী উপজেলা সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে কর্মরত ছিলেন। এদিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলিল লেখক মুন্সি দেলোয়ার হোসেন বোয়ালিয়া মৌজার ১৫ শতক জমির দলিল রেজিষ্ট্রি করার জন্য সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে একটি নথি দাখিল করেন। দলিল লেখক দেলোয়ার হোসেনের দাখিলকৃত নথি যাচাই-বাছাই করে দেখা গেছে খতিয়ান-৮৫৫ দাখিলা- ৪৭১২২৬১৭৫৩৪০, খতিয়ান-৬৫৯ দাখিলা- ৪৭১২২৬১৭৫৬৮৭, খতিয়ান-৪৮৩ দাখিলা-৪৭১২২৬১৭৬৮৩৪, খতিয়ান-৪২৩ দাখিলা- ৪৭১২২৬১৭৫৩২৫, খতিয়ান-৩৭৫ দাখিলা-  ৪৭১২২৬১৭৬৮৯৮, খতিয়ান-৫১ দাখিলা- ৪৭১২২৬১৭৫৪০২, খতিয়ান-৩৭১ দাখিলা- ৪৭১২২৬১৭৫৬৮৭, খতিয়ান-১৩১ দাখিলা- ৪৭১২২৬১৭৫৬০১ ও খতিয়ান-৬৫৮ দাখিলা- ৪৭১২২৬১৭৫৫৯৫ অনলাইন দাখিলা গুলো জাল বলে প্রমানিত হয়েছে। দাখিলা জাল প্রমানিত হওয়ায় ওই দলিলটির রেজিষ্ট্রি স্থগিত ও ৮টি জাল দাখিলাসহ নথির সকল কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। আগামী বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দলিল লেখক মুন্সি দেলোয়ার হোসেনের কাছে দাখিলা জালের বিষয়ে লিখিত ভাবে জবাব চাওয়া হবে। তাঁর জবাবের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিতলমারী সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক মুন্সি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার সহকারি দলিল লেখক সুব্রত রায় ওই দাখিলা গুলোসহ নথিটি আমাকে দেয়। নথিটি স্বাক্ষর করে দলিলটি রেজিষ্ট্রির জন্য আমি সাব-রেজিষ্ট্রারের সামনে উপাস্থাপন করি।’

দলিল লেখক সুব্রত রায় বলেন, ‘বোয়ালিয়া মৌজার ১৫ শতক জমির দাতা শাকিরুল বেগম ও গ্রহীতা মোঃ মাসুম কাজী জমিটি রেজিষ্ট্রি দলিল করার জন্য আমাদের কাছে আসে। মাসুম কাজী ওই দাখিলা গুলোসহ উক্ত কাগজপত্র আমাদের সরবরাহ করে।’

গ্রহীতা মোঃ মাসুম কাজী বলেন, ‘বোয়ালিয়া মৌজার ১৫ শতক জমি সাড়ে ৫ লাখ টাকায় ক্রয় নির্ধারন হয়। এই জমির দলিল রেজিষ্ট্রির জন্য দলিল লেখক আমার কাছ থেকে ৮১ হাজার টাকা নিয়েছে এবং ১৬ হাজার টাকার দিয়ে জসিমের কাছ থেকে ওই ৮টি দাখিলা সংগ্রহ করেছি।’

চিতলমারী সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি খাঁন মনিরুজ্জামান বলেন, ‘এই দাখিলা জালের ঘটনায় আমরা নিন্দা জানাই। যারা এই জাল চক্রের সাথে জড়িত আমরা তাদের শাস্তি দাবি করি।’

হিজলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল ওহাব বলেন ‘ বিগত প্রায় ৬ মাস ধরে বোয়ালিয়া মৌজার খাজনা আদায় ও দাখিলা দেওয়া বন্ধ রয়েছে।’

এ ব্যাপারে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, ‘এ ব্যাপারে কেউ আমাকে কিছু বলেননি। রেজিষ্ট্রি অফিসে যে ব্যক্তি জাল দাখিলা দাখিল করেছেন সাব-রেজিষ্ট্রার তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন।’ 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ