খুলনা | রবিবার | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

ফোন জব্দ, ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিষেধাজ্ঞা- রিজওয়ানের ফেরার অপেক্ষা আর কতদিন?

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
০৩:০৯ পি.এম | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

একদিকে তদন্ত, অন্যদিকে মাঠের বাইরে থাকার অনিশ্চয়তা মোহাম্মদ রিজওয়ানের সময়টা যেন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। অনলাইন বেটিং ও জুয়াসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে মুঠোফোন জব্দ হওয়ার পর সেটি এখনো ফেরত পাননি পাকিস্তানের এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। শুধু তাই নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাকে খেলতে দেওয়া হচ্ছে না।

চলতি মাসের মাঝামাঝি ইংল্যান্ড সফর শেষ করে দেশে ফেরার পর থেকেই রিজওয়ানকে ঘিরে তদন্ত চলছে। পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন (এনসিসিআইএ) এজেন্সি তার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তদন্ত চললেও এখন পর্যন্ত রিজওয়ানের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডও (পিসিবি) বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। বোর্ড এক বিবৃতিতে বোর্ড জানিয়েছে, নিয়মিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্ট সবার বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন রিজওয়ান। পরে বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের কাছেও জানতে চেয়েছেন তিনি। তার মুঠোফোন জব্দ, ইংল্যান্ড থেকে সেটি পাকিস্তানে নেওয়া এবং ফরেনসিক পরীক্ষা এসব বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড অবগত ছিল কি না, তা জানতে চেয়েছেন রিজওয়ান। তবে এখনও কোনো জবাব পাননি তিনি।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক আইন বিভাগের প্রধান তাফাজ্জুল রিজভির মতে, তদন্তের বর্তমান পর্যায়কে চূড়ান্ত অভিযোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার মতে, রিজওয়ানের কাছে এখন পর্যন্ত একটি নোটিশ পাঠিয়ে প্রশ্নমালার উত্তর চাওয়া হয়েছে। কারও কাছে নোটিশ পাঠানো বা তদন্তকারী সংস্থার সামনে হাজির হতে বলা মানেই ওই ব্যক্তি অপরাধ করেছেন এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

রিজভির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পাকিস্তানের আইনে অনলাইন বেটিং ও জুয়া অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা তথ্য সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাউকে নোটিশ দিতে পারে। দেশের বাইরে থাকা ব্যক্তির কাছ থেকেও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য বা উপকরণ চাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তদন্তের মধ্যে রিজওয়ানের মাঠে ফেরার পথও বন্ধ হয়ে গেছে। প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাকে খেলতে দেওয়া হয়নি। ইংল্যান্ড সফর থেকে ফিরে পাকিস্তানের বেশির ভাগ ক্রিকেটার এই প্রতিযোগিতায় খেললেও রিজওয়ানকে মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে। এমনকি নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেডের সহ-অধিনায়ক করা হলেও দলের হয়ে খেলার অনুমতি পাননি তিনি।

শুধু মাঠ নয়, সংবাদমাধ্যম থেকেও দূরে রাখা হয়েছে রিজওয়ানকে। ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাকে দুবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তদন্ত নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো অভিযোগ করবেন না বলার পরও কেন তাকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

রিজওয়ানের সঙ্গে একই অভিযোগে পাকিস্তানের আরেক ক্রিকেটার ইমাম-উল-হককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার মুঠোফোনও নেওয়া হয়েছিল। তবে রিজওয়ানের মতো প্রকাশ্যে বিষয়টি নিয়ে অবস্থান নেননি ইমাম।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ