খুলনা | সোমবার | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

হিমালয়ের ৭ হাজার ফুট উচ্চতায় তুষারধসে নিখোঁজ ১৪ জন

খবর প্রতিবেদন |
০৩:৪৯ পি.এম | ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

নেপালের মানাং জেলার নার ফু অঞ্চলের ৭ হাজার ১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং হিমালে তুষারধসের পর অন্তত ১৪ জন নেপালি নিখোঁজ হয়েছেন। খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। আজ রোববার সকাল থেকে সরকারি সংস্থা ও বেসরকারি অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন হিমালয়ান হলিডেজ ট্রেকিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা বিভূতি চাঁদ ঠাকুর। অভিযানের প্রস্তুতিতে থাকা দলের সদস্যরা নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি উদ্ধার প্রচেষ্টার সমন্বয় করছেন।

নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, হিমালয়ে তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ট্রেকিং ও পর্বতারোহণ অভিযান আয়োজন করে আসা ঠাকুর জানান—প্রথমে ২২ সদস্যের দলের আটজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না বলে জানানো হয়েছিল। পরে নিখোঁজের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, ‘আমি একটানা ফোনে যোগাযোগ করে যাচ্ছি।’

নিখোঁজ সবাই অভিযানের নেপালি সদস্য। তাঁদের মধ্যে শেরপা ও সহায়ক কর্মীরাও রয়েছেন। এখনো কোনো বিদেশি পর্বতারোহী পাহাড়ে পৌঁছাননি। বিদেশি অভিযাত্রীদের আগে নেপালি সদস্যদের সেখানে পাঠানো হয়েছিল ক্যাম্প প্রস্তুত করা, পথ পরিষ্কার ও ব্যবস্থাপনা করা এবং দড়ি স্থাপনের কাজের জন্য। বিদেশি অভিযাত্রীরা পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে সেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল।

আজ রোববার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে হিমলুংয়ে কর্মরত এক শেরপা হিমালয়ান হলিডেজের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক দেবাশীষ মল­াকে ফোন করে উদ্ধার হেলিকপ্টার পাঠানোর অনুরোধ করেন। ঠাকুর বলেন, ‘আবহাওয়া ভালো ছিল এবং তারা আমাদের ফোন করে একটি উদ্ধার হেলিকপ্টার পাঠাতে বলেছিল, কারণ আটজনকে দেখা যাচ্ছিল না।’

পরে আরও একটি ফোন এলেও আবার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কাঠমান্ডু ও পোখারায় বেসরকারি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঠাকুর জানান, দুটি হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করা হলেও এখন পর্যন্ত একটি নিশ্চিত করা গেছে। নেপালি সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার উদ্ধারে পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে।

ঠাকুর জানান, তিনি পর্যটন বিভাগের মহাপরিচালক রামকৃষ্ণ লামিছানের সঙ্গে কথা বলেছেন। লামিচানে তাঁকে জানিয়েছেন, সরকার একটি হেলিকপ্টার পাঠানোর চেষ্টা করছে। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেটি এখনো পাঠানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য শেরপা ও উদ্ধার অভিযানে যোগ দিতে আগ্রহী ব্যক্তিরাও স্থলপথে ওই এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থলপথে উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

পর্যটন বিভাগের মহাপরিচালক লামিচানে জানান, বিভাগটি পোখারা থেকে একটি হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করছে। হিমলুংয়ে অভিযান পরিচালনার অনুমতিপত্র দেয় পর্যটন বিভাগ। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী নিখোঁজদের মধ্যে রান্নার কর্মী, শেরপা গাইড এবং অন্যান্য সহায়ক কর্মী রয়েছেন।

ইমাজিন নেপালের দুজন নেপালি সদস্যও নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক দাওয়া ফুটী শেরপা। তিনি জানান, কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে একটি হেলিকপ্টার এবং অভিজ্ঞ পর্বত গাইডদের একটি দল প্রস্তুত রয়েছে। তবে আবহাওয়ার কারণে তারা এখনো উড্ডয়ন করতে পারেনি। দাওয়া ফুটী শেরপা বলেন, ‘তারা সবাই প্রস্তুত অবস্থায় আছে, কিন্তু বিমানবন্দরের আবহাওয়ার কারণে তাঁরা উড্ডয়ন করতে পারছেন না।’ ইমাজিন নেপালের মিংমা গ্যালজেন এবং আরও সাতজন পর্বত গাইডও উদ্ধারে যোগ দেওয়ার জন্য বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন। নিখোঁজ সদস্যদের সঙ্গে সকাল প্রায় ৯টা পর্যন্ত কোম্পানির যোগাযোগ ছিল। এরপর তাদের আর পাওয়া যায়নি।

হিমালয়ান হলিডেজের এই মৌসুমে হিমলুংয়ে এটি দ্বিতীয় অভিযান বলে জানান ঠাকুর। বিদেশি অভিযাত্রীদের পৌঁছানোর প্রস্তুতি হিসেবে কোম্পানিটি নেপালি কর্মীদের আগেই সেখানে পাঠিয়েছিল। বিদেশি অভিযাত্রীরা আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে সেখানে পৌঁছানোর কথা ছিল। কাঠমান্ডুতে নিজের কার্যালয় থেকে ঠাকুর ফোনে উদ্ধার তৎপরতার সমন্বয় করে যাচ্ছেন। তবে হিমলুংয়ে হেলিকপ্টার পাঠানো এবং নিখোঁজদের উদ্ধারের পুরো প্রচেষ্টা এখন আবহাওয়ার উন্নতির ওপর নির্ভর করছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ