খুলনা | সোমবার | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মাদক প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত

|
১২:২৬ এ.এম | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সা¤প্রতিক সময়ে দেশে মাদক কারবারিদের মাত্রাতিরিক্ত দৌরাত্ম্য দেখা যাচ্ছে। শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামেও ভয়াবহ সব মাদকের বিস্তার। সহজলভ্য এসব মাদকে ঝুঁকছে দেশে তরুণ প্রজন্মের একাংশ। জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। এমন প্রেক্ষাপটে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বলা বাহুল্য, এটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।
গত বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বিজ্ঞপ্তিতে কবে কমিটি গঠন করা হবে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়নি। সমাজের ওয়াকিফহাল মহল মনে করছেন, এটি যত দ্রুত করা হবে ততই মঙ্গল।
মাদকের বিস্তার নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে দেশের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে দেশের শীর্ষ পর্যায়ে কারো অজানা নয়। স¤প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘সমাজে সংঘটিত বেশির ভাগ ঘৃণ্য ও চাঞ্চল্যকর অপরাধের পেছনে মাদক ও জুয়া মূল চালিকাশক্তি। শুধু অপরাধীকে সাজা দিলেই হবে না, কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। অপরাধের উৎসমুখে সমাধান আনা গেলে অপরাধের হার কার্যকরভাবে কমানো সম্ভব।
জানা যায়, তাঁর ওই বক্তব্যের কয়েক দিন পরই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সারা দেশের মাদক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন কমিটির সদস্যরা।
বিভিন্ন সময় পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যায়, রাজধানীর মতো শহরগুলোয় প্রকাশ্যেই কেনাবেচা হয় হরেক রকমের মাদক। হটস্পটগুলোয় ডেকে ডেকে মাদক বিক্রি করা হয়। মিয়ানমার থেকে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে দেদার ঢুকছে ইয়াবা। দেশের অন্য সীমান্ত দিয়েও প্রতিদিন মাদক প্রবেশ করছে। এই বিষয়গুলো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অজানা থাকার কোনো কারণ নেই। মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযানও পরিচালিত হয়। কিন্তু এসব অভিযান যে পর্যাপ্ত নয়, তা বাস্তবতাই বলে দিচ্ছে। মাদক কারবারিরা এখন অনলাইনে বিক্রির মতো নানা নতুন কৌশল রপ্ত করছে। কাজেই নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর পাশাপাশি জনগণের সচেতন ভূমিকা প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সচেতন জনগণের তৎপরতা দৃশ্যমান হতে পারে। আমরা আশা করছি, এই কমিটি কার্যকর করতে শিগগির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ