খুলনা | সোমবার | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

মোংলায় পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

বিষ দিয়ে মাছ শিকারে জড়িতদের পাশাপাশি জবাবদিহি করতে হবে বন কর্মকর্তাদেরও

মোংলা প্রতিনিধি |
১২:৫৪ এ.এম | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সুন্দরবনের অনন্য জীববৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ রক্ষায় বিষ দিয়ে মাছ শিকারের মতো জঘণ্য অপরাধ যে কোনো মূল্যে কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরির্বুন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সুন্দরবনের যে অঞ্চলে বিষ দস্যুদের তৎপরতা বা বিষ দিয়ে মাছ শিকারের ঘটনা ঘটবে, তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। সেই এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তাকে (ফরেস্ট অফিসার) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। একই সাথে বন্যপ্রাণী হত্যাসহ সুন্দরবনের ক্ষতিসাধনকারী সব ধরণের অপকর্ম থেকে অপরাধীদের অবিলম্বে সরে আসার আহবান জানান তিনি।
রবিবার বিকেলে মোংলা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিণ এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মোংলা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এলাকার হতদরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের মাঝে বিভিন্ন প্রকার মানবিক ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
তিনি আরো বলেন, ইটের দিন শেষ, গ্রামীণ জনপদে আসবে পরিবেশবান্ধব ব্লক। দেশের সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের নতুন ও যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানিয়ে লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ দূষণ রোধে আমরা কঠোর নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আগামীতে দেশের গ্রামীণ জনপদে সনাতন পদ্ধতির ইটের পরিবর্তে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহার করা হবে। পোড়ানো ইটের উৎপাদন ও ব্যবহার ক্রমান্বয়ে কমিয়ে এনে ব্লকের ব্যবহার শতভাগে উন্নীত করতে হবে। এর মাধ্যমে ফসলি জমির মাটির অপচয় রোধ হবে এবং বায়ু দূষণ অনেকাংশে কমে আসবে।
এছাড়া সমাজে চলমান নৈতিক অবক্ষয় এবং অনৈতিকতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সমাজে এক ধরণের দ্বিমুখী নীতি লক্ষ্য করা যায়। আমরা একদিকে যেমন দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিই, দুর্নীতি করি, আবার অন্যদিকে নামাজ পড়ি, ইবাদত-বন্দেগিও করি। কিন্তু মনে রাখতে হবে, অবৈধ্য উপার্জন বা দুর্নীতি করলে সেই নামাজ-ইবাদত সৃষ্টিকর্তার দরবারে কোনো কাজে আসবে না। তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মানুষকে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার আহবান জানান।
উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের দীর্ঘদিনের চিকিৎসাকষ্টের অবসান ঘটিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সাগর পাড়ে মাছ আহরণে নিয়োজিত দুবলার চরের প্রান্তিক জেলেদের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে এবারই প্রথম একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর ফলে জেলেরা সাগরে থাকা অবস্থাতেই আধুনিক জরুরি চিকিৎসা সেবা পাবেন।
পাশাপাশি পলিথিন ও প্লাস্টিকের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের দৈনন্দিন জীবন থেকে পলিথিন ও প্লাস্টিক সম্পূর্ণরূপে বর্জন করতে হবে। প্লাস্টিক বর্জ্যরে কারণে মানুষের শরীরে নীরবে মরণব্যাধি ক্যান্সারের জীবাণু ঢুকছে। শুধু মানুষই নয়, প্লাস্টিক ও পলিথিন দূষণের কারণে আমাদের বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন এবং এর জলজ ও স্থলজ প্রাণীকুল মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি উপস্থিত সকলকে সর্বোচ্চ সাবধানতা অবলম্বনের এবং সচেতনতা গড়ে তোলার আহবান জানান।
মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার সুমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আঃ মান্নান হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক আবু হোসেন পনি এবং মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইনসহ আরো অনেকে। এছাড়াও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম মাসুদ রানা, উপজেলা প্রকৌশলী নাবিদুল ইসলাম, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইশরত জাহান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত শতাধিক হতদরিদ্র পরিবারের হাতে পুনর্বাসন ও সহায়তা সামগ্রী তুলে দেন।
 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ