খুলনা | সোমবার | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

পর্যটন খাতে আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্য বাংলাদেশের : পর্যটনমন্ত্রী

খবর প্রতিববেদন |
০১:৪১ এ.এম | ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে দেশের বিপুল সম্ভাবনাময়, কিন্তু এখনো অনেকাংশে অনাবিষ্কৃত পর্যটন আকর্ষণগুলোকে বাজারজাতযোগ্য পর্যটন পণ্যে রূপান্তর, বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের অবদান বাড়াতে একটি উচ্চাভিলাষী রোডম্যাপ গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ।সরকার পর্যটনকে শুধু অবসরকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, গ্রামীণ উন্নয়ন ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটেই এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হচ্ছে।
এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা। এতে দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি চিহ্নিত পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে সমুদ্রসৈকত, বন, পাহাড়, জলাভূমি, প্রতœতাত্তি¡ক স্থাপনা, গ্রাম, খাবার ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, দেশের বিক্ষিপ্ত পর্যটন সম্ভাবনাগুলোকে পরিকল্পিত, টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক শিল্পে রূপান্তর করতে চায় সরকার। তিনি বলেন, ‘আমরা ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি পর্যটন মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।’
মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অংশেরই বলার মতো একটি গল্প রয়েছে। এর মধ্যে সুন্দরবন, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল, সিলেটের চা-বাগান, নদী ও জলাভূমি, প্রতœতাত্তি¡ক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের মানুষের আতিথেয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সরকার কক্সবাজারকে একটি আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। মন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ভারসাম্যপূর্ণ আঞ্চলিক উন্নয়নে সরকারের বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ হিসেবেই পর্যটনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘লক্ষ্যগুলো উচ্চাভিলাষী। তবে সরকারি- বেসরকারি খাত ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী একসঙ্গে কাজ করলে এগুলো অর্জন সম্ভব।’
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার বলেন, নির্ভরযোগ্য পর্যটন ডাটাবেস তৈরি এবং ডিজিটালাইজেশন ত্বরান্বিত করা এ খাতের রূপান্তর এবং তথ্যভিত্তিক নীতি ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, পর্যটন অর্থনীতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য ও সমন্বিত তথ্যের দীর্ঘদিনের ঘাটতি দূর করতে মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট (টিএসএ) তৈরির কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘পর্যটন খাতের উন্নয়নে তথ্যের ঘাটতি মোকাবিলায় আমরা ইতোমধ্যে ট্যুরিজম স্যাটেলাইট এ্যাকাউন্টের কাজ শুরু করেছি।’
টিএসএ কর্মসংস্থান, ভোগ, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর পর্যটনের প্রভাবসহ এ খাতের প্রত্যক্ষ অর্থনৈতিক অবদান আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিমাপে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে পর্যটন সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ রিয়েল-টাইম পরিসংখ্যান না থাকায় উদ্যোগটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এর ফলে খাতটির অবদান সঠিকভাবে পরিমাপ এবং তথ্যভিত্তিক উন্নয়ন ও বিনিয়োগ নীতি প্রণয়ন কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভবিষ্যৎ পর্যটন ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতেও ডিজিটালাইজেশনকে রাখা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে পর্যটকরা গন্তব্য সম্পর্কে জানতে এবং পর্যটন-সংশ্লিষ্ট তথ্য ও সেবা পেতে পারবেন।
বৃহত্তর রোডম্যাপে গন্তব্যগুলোতে ডিজিটাল ব্যাখ্যা সুবিধা, রিয়েল-টাইম পর্যটন ড্যাশবোর্ড এবং পর্যটন বিপণন, দর্শনার্থী সেবা ও খাত ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির আরও বেশি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মোঃ শামীমুজ্জামান বলেন, চিহ্নিত পর্যটন সম্ভাবনাগুলো থেকে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০টি উন্নয়ন প্রকল্প অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নির্বাচন করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা হলে জাতীয় অর্থনীতিতে পর্যটনের অবদান ৮ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত হতে পারে এবং বর্তমানে আনুমানিক ২৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এসব উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গতি সঞ্চার করতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত গন্তব্যগুলোর বাইরে পর্যটন থেকে অর্জিত আয় ছড়িয়ে দিয়ে একটি সার্কুলার অর্থনীতির ভিত্তি তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।
বিপিসি বর্তমানে সারাদেশে ৫৪টি সেবা ইউনিট পরিচালনা করছে। এ ছাড়া এর ন্যাশনাল হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ট্রেনিং ইনস্টিটিউট পর্যটন ও আতিথেয়তা শিল্পের জন্য প্রায় ৫৪ হাজার মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
সরকারের মূল্যায়নে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে আটটি পণ্য শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে-প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী; সমুদ্র ও নীল পর্যটন; পাহাড় ও অ্যাডভেঞ্চার; চা ও প্রকৃতিনির্ভর অবকাশ; ঐতিহ্য ও প্রতœতত্ত¡; নদী ও ক্রুজ পর্যটন; গ্রাম ও কমিউনিটি পর্যটন; এবং মাইস (মিটিংস, ইনসেনটিভস, কনফারেন্সেস অ্যান্ড এক্সিবিশনস ট্যুরিজম) ও বিশেষ আগ্রহভিত্তিক পর্যটন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ