খুলনা | বুধবার | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মিয়ানমারের অভিবাসীদের ফেরত পাঠাতে শুরু করেছে মালয়েশিয়া

খবর প্রতিবেদন |
০৫:৫৩ পি.এম | ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগকে পাশ কাটিয়ে মিয়ানমারের প্রায় দেড় হাজার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া। মঙ্গলবার প্রথম ধাপে ওই অভিবাসীদের জাহাজে করে মিয়ানমারে ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন আটক কেন্দ্র থেকে ‘স্বেচ্ছায়’ নিজ দেশে ফিরতে রাজি হওয়া মিয়ানমারের প্রায় ৫ হাজার নাগরিকের মধ্যে প্রথম ধাপে দেড় হাজার জনকে পাঠানো হচ্ছে।

এএফপির প্রতিনিধিরা দেখেছেন, মিয়ানমারের নাগরিকদের বহনকারী বহু বাস পুলিশি নিরাপত্তায় মালয়েশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লুমুত নৌঘাঁটির কাছে অবস্থিত মজলিস পারবান্দারান মানজুং স্টেডিয়ামে গিয়ে পৌঁছেছে। তবে স্টেডিয়ামের প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

ধারণা করা হচ্ছে, অভিবাসীদের আনুষঙ্গিক যাচাই-বাছাই ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে পাশের নৌঘাঁটিতে নেওয়া হবে এবং সেখান থেকে জাহাজে করে মিয়ানমারে পাঠানো হবে।

ফেরত পাঠানো এই দলে কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

তবে জাতিসংঘ বলেছে, মালয়েশিয়ায় থাকা ১ লাখ ৯০ হাজার মিয়ানমারের শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই নিজ দেশে নির্যাতিত মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।

চলতি বছরের জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বলেছিলেন, মিয়ানমার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে। বিরল এই প্রত্যাবাসন উদ্যোগ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মাঝে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া ১০০ জনেরও বেশি রোহিঙ্গাকে কর্তৃপক্ষ আটক করার পর এই প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে আসে।

দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় পেনাং রাজ্যের একটি অস্থায়ী বসতি থেকে উচ্ছেদের হুমকির মুখে পড়ে সাহায্যের আশায় ওই কার্যালয়ের সামনে এসেছিলেন এই শরণার্থীরা। পরবর্তীতে তাদের কাছে জাতিসংঘের বৈধ কাগজপত্র থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর টানা সমালোচনার মুখে চলতি মাসের শুরুর দিকে মিয়ানমার আশ্বাস দেয়, বিদেশে বাস্তুচ্যুত নিজেদের নাগরিকদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হবে।

প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মিন অং হ্লেইংকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানাবেন বলেও জানিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিলেও মালয়েশিয়া ১৯৫১ সালের আন্তর্জাতিক শরণার্থী সনদে স্বাক্ষর করেনি। ফলে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয় না।

এএফপির ফ্যাক্ট-চেকিং দল দেখেছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা প্রতিনিয়ত ইন্টারনেটে অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এসব অপপ্রচার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদেশিভীতি ও উস্কানি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এই জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নৃশংস দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন।
সূত্র: এএফপি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ