খুলনা | বুধবার | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে চেয়ারম্যান

সক্ষমতার তুলনায় অনেক পিছিয়ে মোংলা বন্দর, বাড়ছে কার্গো হ্যান্ডলিং ও রাজস্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:১৮ এ.এম | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বছরে ১ কোটি ৫০ লাখ টন কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা রয়েছে মোংলা বন্দরের। গত অর্থবছরে সেখানে হ্যান্ডলিং হয়েছে ৯৯ লাখ ৫০ হাজার টন। আগের অর্থবছরের তুলনায় যেটি ৮ শতাংশ বেশি। কনটেইনার হ্যান্ডলিংও বেড়েছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। গত অর্থবছরে মোংলা বন্দরের রাজস্ব আয় হয়েছে ৩৪৮ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। এটিই বন্দরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয়।
গতকাল মঙ্গলবার খালিশপুরের পোর্ট অডিটোরিয়ামে খুলনায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা এসব তথ্য জানান।
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আমদানি-রপ্তানি চাহিদা পূরণে মোংলা বন্দরের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্যেও বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অবকাঠামো, যোগাযোগ ও নৌপথ উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তবে মোংলা বন্দরের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে নাব্যতা সংকটের কথা উলে­খ করেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, বর্তমানে চ্যানেলের গভীরতা ৬ দশমিক ৫ মিটার। জোয়ারের সময় ৮ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ আনা হচ্ছে। বন্দরের লক্ষ্য চ্যানেলের গভীরতা ৭ দশমিক ৫ মিটার বজায় রাখা। এ জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি মেইনটেন্যান্স ড্রেজিং শুরু হয়েছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। 
বন্দর আধুনিকায়নে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর আওতায় দু’টি কনটেইনার টার্মিনাল, ডেঞ্জারাস কার্গো ইয়ার্ড ও আধুনিক হ্যান্ডলিং সরঞ্জাম যুক্ত হবে। পোর্ট অপারেটিং সিস্টেম ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে মোংলা বন্দরকে স্মার্ট বন্দরে রূপান্তরের পরিকল্পনাও রয়েছে।
তিনি জানান, রামপাল থেকে আল্ট্রা সুপার পাওয়ার প্ল্যান্ট পর্যন্ত পশুর চ্যানেল ড্রেজিংয়ে ৭৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প চলমান। একই সঙ্গে বয়া লেইং ভেসেল, সার্ভে ভেসেল, ফায়ার ফাইটিং ভেসেল ও পাইলট মাদার ভেসেল সংগ্রহের কাজ চলছে।
ড্রেজিংয়ের ব্যয় কমাতে নদীশাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রস্তাব সরকারের কাছে দেওয়া হয়েছে। জয়মনিরঘোলে টার্মিনাল নির্মাণ করা গেলে পলি জমার প্রবণতা প্রবণ এলাকায় ড্রেজিংয়ের চাপও কমানো সম্ভব হতে পারে।
মোংলা বন্দরের রেললাইন পুরোপুরি ব্যবহার করা যাচ্ছে না উলে­খ করে তিনি বলেন, প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন স¤প্রসারণ করা গেলে বন্দরের পণ্য সরাসরি পরিবহনের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি ঢাকা-মোংলা চার লেন সড়ক এবং খুলনা অঞ্চলে বিমানবন্দর নির্মাণ হলে বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসা ও বিনিয়োগ আরও বাড়বে।
বন্দর ব্যবহারকারীদের সেবা সহজ করতে ওয়ানস্টপ সার্ভিস চালু রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ সেবা ও পেমেন্ট অনলাইনে আনা হয়েছে। ই-পেপার সার্ভিসের কাজও শেষ হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন বছরে দেড় হাজার জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা থাকলেও গত অর্থবছরে মোংলা বন্দরে এসেছে ৮১৫টি। একইভাবে ১ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা থাকলেও হয়েছে মাত্র ১৯ হাজার ৭৯৪ টিইইউএস। সক্ষমতার বড় অংশ অব্যবহৃত থাকলেও কার্গো ও রাজস্ব আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে বন্দরটিতে। সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো গেলে এ বন্দর হবে দেশের রাজস্ব আয়ের সেরা উৎস্য। সে লক্ষেই কাজ করছে বর্তমান প্রশাসন। এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, পরামর্শসহ সার্বিক সহায়তা কামনা করেন। 
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর মোঃ শফিকুল ইসলাম সরকার, সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) (দায়িত্বপ্রাপ্ত বিকল্প কর্মকর্তা) প্রকৌশলী শেখ শওকত আলী, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা কমান্ডার এস এম আফজালুল ইসলাম, পরিচালক (বোর্ড) কালাচাঁদ সিংহ, হারবার মাস্টার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) মোঃ সালাহউদ্দিন কবির, প্রকৌশলী সগীর আহমেদ, প্রোগ্রামার, সহকারী ট্রাফিক ম্যানেজার মোঃ শামীম হাওলাদার। এছাড়া খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সরোয়ার, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলামসহ খুলনায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রোনিক মিডিয়ায় কর্মরত সংবাদ কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ