খুলনা | বুধবার | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

নুসরাত হত্যা মামলায় ৪ আসামির আপিল বিভাগে আবেদন

খবর প্রতিবেদন |
০২:৩০ পি.এম | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজ উদদৌলা ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামি খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন। আজ বুধবার আপিলের বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন এই দুই আসামির জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন— জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপি।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট নুসরাত হত্যা মামলায় রায় দেন। রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে সাজা কমিয়ে ৪ জনকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে ফেনীর আদালতে রায় দেওয়া বিচারক মামুনুর রশিদের ফৌজদারি মামলার বিচার করার ক্ষমতা কেড়ে নিতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের। মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়— নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জুবায়ের এবং উম্মে সুলতানা ওরফে পপিকে।

মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস দেওয়া হয়– সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহসভাপতি রুহুল আমিন, মহিউদ্দিন শাকিল ও মোহাম্মদ শামীমকে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। ওই ঘটনায় মামলা হলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা তুলে না নেওয়ায় ৬ এপ্রিল নুসরাত মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে পরিকল্পিতভাবে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে ডেকে নিয়ে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় পরবর্তীতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।

ওই ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় ওই বছরের ২৮ মে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। বিচার শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পরে ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য মামলার নথি পাঠানো হয় হাইকোর্টে। সেই সঙ্গে আপিল ও জেল আপিল করেন আসামিরা। শুনানি শেষে চলতি বছরের ২৪ আগস্ট রায় দেন হাইকোর্ট।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ