খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম অব্যবস্থাপনা, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগীরা

মাহাবুবুর রহমান, ডুমুরিয়া |
১১:৫৩ পি.এম | ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ডুমুরিয়া হাসপাতালের প্রবেশ মুখে নোংরা পানি, দুর্গন্ধময় টয়লেট, অচল ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিত্যক্ত ভবনে পশুর অবাধ বিচরণ এবং দখলদারিত্বে সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে জনস্বাস্থ্যের জন্য পরিবেশ উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ এমন নোংরা পরিবেশ সৃষ্টির পরও দেখার কেউ নেই। সরেজমিনে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের সাথে কথা বললে তারা অভিযোগ করে বলেন, যেখানে মানুষ সুস্থ হতে আসে সেখানে এখন রোগ ছড়ানোর আশঙ্কাই বেশি কারণ হাসপাতাল চত্বরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে জমে থাকা নোংরা পানি ও আবর্জনার স্ত‚প। 
হাসপাতালের পুরোনো চারতলা ভবনটি বছরের পর বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভবনের ভেতরে গরু, ছাগল ও কুকুরের অবাধ বিচরণে মলম‚ত্রে সয়লাব হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা। বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে মশা ও রোগজীবাণু বিস্তারের ঝুঁকিও বাড়ছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের ডিপ টিউবওয়েল ঘিরে ময়লা-আবর্জনা পরিছন্নতা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই সামনে এনে দিয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা আবজাল হোসেন খান বলেন, হাসপাতালের ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে হাসপাতাল চত্বরে দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তিনি অভিযোগ করেন, স¤প্রতি নির্মিত নতুন ভবনের টয়লেটের মলম‚ত্র হাসপাতালের প্রবেশমুখ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে প্রতিদিন রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের অভ্যন্তরে বহিরাগতদের জ্বালানি কাঠ মজুত রাখার অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে প্রধান ফটকের সামনে দোকানদারদের চেয়ার-টেবিল বসিয়ে ব্যবসা পরিচালনার কারণে গুরুত্বপ‚র্ণ সড়কটি সংকুচিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারে না।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা একাধিক রোগী ও স্বজন বলেন, উপজেলা পর্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপ‚র্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের এমন করুণ চিত্র মেনে নেওয়া যায় না। হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ রোগীদের জন্য নতুন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। দ্রæত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। স্থানীয় স‚ত্র জানায়, হাসপাতালের এই নাজুক পরিস্থিতির বিষয়টি স¤প্রতি উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও উত্থাপন করা হয়েছে। জনস্বার্থে দ্রæত সংস্কার, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণ এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার করিকল্পনা কর্মকতা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ আরাফাত মাহমুদ জানান, হাসপাতালের নতুন ভবনটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা না রেখেই তৈরি হয়েছে। অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া পানি নিষ্কাশনেরও ভালো ব্যবস্থা নেই। বর্ষা মৌসুমে হাসপাতাল চত্বরের অনেক জায়গায় পানি জমে থাকে। এ বিষয়ে খুলনার সিভিল সার্জন ডাঃ মোছাঃ মাহফুজা খাতুন বলেন, “আমি স¤প্রতি হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছি। বাস্তব অবস্থা খুবই খারাপ। বর্তমান পরিস্থিতর ছবি ও প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে টিএইচএ না থাকায় কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। এছাড়া পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দও নেই।” 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ