খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

যশোরে জাবির হোটেলে ২৪ জন নিহত : জড়িতরা চিহ্নিত হয়নি, আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর |
০১:০১ এ.এম | ০১ অক্টোবর ২০২৬


২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদারের মালিকাধীন শহরের জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে আগুন দিলে ২৪ জন নিহত হন। ওই মৃত্যুর ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও শনাক্ত করতে পারেনি তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন। এজন্য তিনি স¤প্রতি যশোরের আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন।
প্রতিবেদন মতে বিভিন্ন সময় আটক সাতজনকে শ্যোন এ্যারেস্ট দেখানো হয়। তারা হলেন-মোঃ আব্দুল খালেক (৬৫), মোঃ এনামুল হক (৫৯), আব্দুর রহমান শাওন (৩৬), এড. সৈয়দ কবির হোসেন জনি (৪১), এস এম আজাহার হোসেন স্বপন (৫২), কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল (৩১) এবং মো. ইমন কাজী (২৬)। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এজন্য তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
সূত্রের দাবি, যাদের আটক করা হয় তারা সবাই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। বিভিন্ন সময় তাদের নাশকতা ও অন্যান্য মামলায় আটক করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়। এ সুযোগে তাদের জাবির হোটেল ট্রাজেডির মামলায় শ্যোন এ্যারেস্ট দেখায় পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাজী বাবুল হোসেন বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে সাতজনকে শ্যোন এ্যারেস্ট দেখানো হয়েছিল। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় অব্যাহতির আবেদন করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। মামলার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত নেবেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে যশোর শহরের চিত্রা মোড়ের এম এম আলী রোডে অবস্থিত জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হোটেলে অবস্থানরত একজন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকসহ ২৪ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে হোটেলের কর্মচারী ও বোর্ডার ছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, সেদিন বিকেল ৩টার দিকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গানপাউডার ও পেট্রোল নিয়ে হোটেলে প্রবেশ করে। তারা হোটেলের ক্যাশ ভল্ট ভেঙে প্রায় ৯০ লাখ টাকা লুট করে। এরপর ফ্রিজ, স্মার্ট টেলিভিশন, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, সাবস্টেশন, প্রেসার পাম্প, সাইবার স্টেশন, ফায়ার ইঞ্জিন, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়। পরে হোটেলের প্রথম থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত অগ্নিসংযোগ করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডে হোটেলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বাদীর দাবি, হোটেলে রাখা বিভিন্ন কোম্পানির মূল্যবান কাগজপত্র, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, তিনটি লিফট, জানালার গ্রিল, কাচের দরজা ও অন্যান্য ডেকোরেশন পুড়ে যায়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার ১৩ দিন পর, ১৮ আগস্ট তৎকালীন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি শাহীন চাকলাদারের চাচাতো ভাই তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ২০০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার দীর্ঘ তদন্তকালে বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে আওয়ামী লীগের সাত নেতাকর্মীকে আটক ও শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় সাতজনের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
তবে তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকৃত হামলাকারী, লুটপাটকারী ও অগ্নিসংযোগকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে কি না এবং ২৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিষয়ে পরবর্তী তদন্ত বা আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না তা আদালতের পরবর্তী আদেশের ওপর নির্ভর করছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ