খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বিপুল মাদকসহ ৫ পাকিস্তানিকে আটকের দাবি ভারতের

খবর প্রতিবেদন |
০১:১৭ এ.এম | ০১ অক্টোবর ২০২৬


আরব সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমায় যৌথ অভিযানে একটি ট্রলার থেকে ৫২৬ কেজি মাদকসহ পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিককে আটকের দাবি করেছে ভারত।  দেশটির উপক‚লরক্ষী বাহিনী (আইজিসি) ও গুজরাট পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (এটিএস) মাদকের এ চালান জব্দ করেছে বলে বুধবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ভারতীয় প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা । প্রায় ৩,০০০ কোটি রুপি (আনুমানিক ৩৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) মূল্যের বিশাল এ মাদকের চালান ‘ইরানি’ পতাকাবাহী একটি ট্রলার থেকে উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাকরান উপকূল থেকে ছেড়ে আসা একটি সন্দেহভাজন মাছ ধরার নৌকা গুজরাট উপকূলের দিকে অগ্রসর হওয়ার গোপন খবর পায় গুজরাট এটিএস। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আরব সাগরে টহলরত উপকূলরক্ষী বাহিনীর নজরদারি জাহাজ ও হেলিকপ্টারকে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
সমুদ্রসীমায় ট্রলারটির গতিবিধি অস্বাভাবিক ঠেকলে আকাশ ও সমুদ্রপথে সেটিকে ঘিরে ফেলে ভারতীয় বাহিনী। তল্লাশি চালিয়ে ট্রলারের বিশেষ প্রকোষ্ঠে লুকানো ৫২৬ কেজি উচ্চ-গ্রেডের সিন্থেটিক মাদক উদ্ধার করা হয়। সমুদ্রেই ট্রলারটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাঁচজন ক্রু সদস্যকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের পরিচয় যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তারা সকলেই পাকিস্তানের নাগরিক।
দেশটির নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর মতে, ইরান ও আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তসংলগ্ন ‘মাকরান উপকূল’ বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক চোরাচালানকারীদের কাছে ‘দক্ষিণ এশীয় মাদক করিডোর’ বা ‘হ্যাশিস হাইওয়ে’ নামে পরিচিত। আফগানিস্তানে উৎপাদিত অবৈধ মাদক বা রাসায়নিক ল্যাবরেটরিতে তৈরি মেথঅ্যাম্ফিটামিন এই রুট দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ভারত মহাসাগর হয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে সামুদ্রিক নিরাপত্তায় প্রযুক্তিভিত্তিক নজরদারি জোরদারের ফলে এই রুটে বড় ধরনের চালান একের পর এক ধরা পড়ছে বলেও দাবি করেছে ভারত। এর আগে গত মে মাসে গুজরাট সংলগ্ন সমুদ্রসীমা থেকেই ১,১৫০ কোটি রুপি মূল্যের অপর একটি বিশাল মাদক চালান আটক করেছিল উপকূলরক্ষী বাহিনী। গ্রেফতারকৃত পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ