খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বিএল কলেজে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে শিবির সভাপতি

রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয় জনগণের মেধা ও মানবসম্পদকে গড়ে তোলা

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০২:১৪ এ.এম | ০১ অক্টোবর ২০২৬


বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, জনগণের মেধা ও মানবসম্পদকে গড়ে তোলা। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের মেধাবী তরুণদের জন্য শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে। বাংলাদেশে সে ধরনের পরিকল্পিত উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে।
বুধবার দুপুরে খুলনা বিএল কলেজ ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে কলেজ অডিটোরিয়ামে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।কলেজ ছাত্রশিবির সভাপতি মাহী চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, খুলনা মহানগর সভাপতি রাকিব হাসান, সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন, সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও বিএল কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস শেখ কামরুল আলম, সাবেক মহানগর সভাপতি মুকাররম বিল্ল¬াহ আনসারী, আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মুশাররফ আনসারী, জাহিদুর রহমান নাঈম, আরাফাত হোসেন মিলন, জামায়াত নেতা আল ফিদা হোসেন, বিএল কলেজ ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মনসুর আলম চৌধুরী, সাইদুর রহমান, মহানগর ছাত্রশিবিরের বায়তুলমাল সম্পাদক কামরুল হাসান, প্রচার ও এইচআরডি সম্পাদক এস এম বেলাল হোসেন, কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হযরত আলী, তথ্য সম্পাদক সেলিম বিন আব্দুস সালাম, শিক্ষা ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক হাফেজ মহিব্বুল্লাহ।
কলেজ ছাত্রশিবির সেক্রেটারি আবুল কাসেমের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন বিএল কলেজ ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক মোখলেছুর রহমান মিরাজ, এইচআরডি সম্পাদক নাফিস সাদিক, সাহিত্য সম্পাদক তহিদুজ্জামান রনি, সহকারী দপ্তর সম্পাদক আমিনুর ইসলাম, আবু মোস্তফা কামাল, শেখ আবুল হাসান, ইস্তিয়াক আহমেদ, খান ফারদিন আহম্মেদ, আসাদুল্লাহ আল গালিব, নুরুল ইসলাম বুলবুল, মুশফিক ফয়সাল, আসাদুল্লাহ আল গালিব, এস কে রায়হান প্রমুখ। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা করেন প্রত্যাশা সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদ। নবীন বরণ অনুষ্ঠানে ক্যারিয়ার সেশন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের আল কুরআন, ফুল, বই, ফোন স্ট্যান্ড, স্টিকার, বুকমার্ক, শুভেচ্ছা কার্ড, স্ন্যাকসসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথিদের বক্তব্যের পাশাপাশি নবীন শিক্ষার্থীরাও অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
নবীন বরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস নানন্দিক তোরণ, ফেস্টুন, প্লাকার্ড, ফটো বুথসহ নানা আয়োজনে ক্যাম্পাস সুসজ্জিত করা হয়। এসব ফেস্টুন-প্লাকার্ডে নবীনদের শুভেচ্ছা বার্তার পাশাপাশি ইসলামের মৌলিক বিষয়, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া, ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক পরিচিতিসহ বিশ্ব ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও ফ্যাসিস্ট আমলে শাহাদাৎবরণকারী ব্যক্তিত্ব ও জুলাই শহীদদের প্রদর্শনী করা হয়।
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় দলীয় বিবেচনায় নম্বর দেওয়ার মাধ্যমে নিয়োগে বৈষম্য করা হয়েছে। তাঁর দাবি, দলীয় পরিচয় না থাকলে কিংবা মাদরাসা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়া হতো।বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার নম্বর কমানোর দাবিতে ছাত্রশিবির আন্দোলন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি বলেন, লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধা যাচাইয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বর্তমান সরকারের আমলেও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, চাকরির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের দলীয় বা রাজনৈতিক বিবেচনা গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের করের টাকায় সরকারি চাকরির বেতন দেওয়া হয়, তাই নিয়োগের ক্ষেত্রেও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হবে।
তিনি শিক্ষার্থীদের সময়ের সদ্ব্যবহার, দলগতভাবে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করার আহবান জানান। তাঁর ভাষ্য, প্রথম বর্ষ থেকেই নিয়মিত পড়াশোনা, দক্ষতা অর্জন ও ক্যারিয়ার পরিকল্পনা করলে দেশের পাশাপাশি বিদেশেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় এই সভাপতি বলেন, শিক্ষা খাত দুর্নীতির দিক থেকে বিভিন্ন সময় শীর্ষ অবস্থানে থাকে। শিক্ষা খাতে সরকার যে বরাদ্দ দেয়, তার একটি বড় অংশ দুর্নীতির কারণে যথাযথভাবে ব্যবহার হয় না।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ