খুলনা | শুক্রবার | ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ইসরায়েলিদের হত্যা করতে চেয়েছেন বিমানটির ওমানি কো-পাইলট!

খবর প্রতিবেদন |
০৩:৩১ পি.এম | ০১ অক্টোবর ২০২৬

 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহর থেকে ফ্লাইদুবাই সংস্থার যে বিমানটি ইসরায়েলের তেলআবিব যাচ্ছিল, তার ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর ভারতীয় নাগরিক।

বিমানটির কো-পাইলট ছিলেন ওমানের নাগরিক। মাঝ আকাশে হঠাৎ ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটিকে দুই মিনিটে ১৭ হাজার ফুট নিচে নামিয়ে আনেন।

তার উদ্দেশ্য ছিল বিমানটি বিধ্বস্ত করে সব ইসরায়েলি যাত্রীকে হত্যা করা। বিমানটি সৌদি আরবে জরুরি অবতরণের পর সেই কো-পাইলটকে গ্রেফতার করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কোনো তথ্যই সৌদি আরব এখন পর্যন্ত দেয়নি। তবে, ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, ওমানের নাগরিক ওই কো-পাইলট ইহুদি-বিদ্বেষী। এ কারণে তিনি সব ইসরায়েলি যাত্রীদের হত্যা করতে চেয়েছেন বিমানটি বিধ্বস্ত করার মাধ্যমে।

এ জন্য তিনি ভারতীয় পাইলটকে ছুরিকাঘাত করে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানটিকে হঠাৎ ১৭ হাজার ফুট নিচে নামিয়ে আনেন। রক্তে ভেসে যাচ্ছিল ককপিট।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিমান সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। যেকোনো মুহূর্তে তা ভেঙে পড়বে বলে তারা ধরেই নিয়েছিলেন। তবে নিরাপদেই সবাই সৌদিতে নেমেছেন।

বুধবার সকালের ঘটনা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ নীরব ছিল ফ্লাইদুবাই। কয়েক ঘণ্টা পরে তারা মুখ খোলেন। তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুবাই থেকে তেলআবিবগামী বিমানের ককপিটে একটি হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছিল, যার ফলে বিমানটিকে সৌদি আরবে অবতরণ করাতে হয়।

সংস্থার এক মুখপাত্র বলেন, বিমানে সংস্থার কর্তব্যরত কর্মকর্তরাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বিমানটিকে ঘুরিয়ে তারা সৌদির তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণ করান। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ঘটনার নেপথ্যের কারণ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি।

বিষয়টি তদন্তের আওতায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথ্য সংগ্রহ করছেন। এই পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে বলছি, অনুমান বা জল্পনা থেকে বিরত থাকুন। যাত্রীদের দেশে ফেরানোর জন্য বিকল্প বিমানের বন্দোবস্ত করেছে ফ্লাইদুবাই। তাতে করে যাত্রীরা তেলআবিবে পৌঁছেও গিয়েছেন।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম সূত্রে এমনটাই দাবি করা হয়েছে আক্রান্ত ওই ভারতীয় পাইলট ২০২২ সাল থেকে দুবাইয়ের বিমান সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। তার আগে ছিলেন ভারতীয় সংস্থা স্পাইসজেটে।

বুধবার সকালে ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ বিমানটি চালাচ্ছিলেন স্মিত মচ্ছর। মাঝ-আকাশে ককপিটের মধ্যেই তার ওপর হামলা হয়। স্মিতকে কোপানো হয় ছুরি দিয়ে। তার সহকারী পাইলট এই আক্রমণ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

বিমানে উপস্থিত যাত্রী এবং অন্য বিমানকর্মীরা হামলাকারীকে বাধা দেন এবং ক্যাপ্টেনকে উদ্ধার করেন। ১৮০ জন যাত্রী-সহ বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। হামলাকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। স্মিত আপাতত সৌদির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

জানা গেছে, গুজরাতি বংশোদ্ভূত স্মিত ২০১১ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত স্পাইসজেটে বিমান চালিয়েছেন। ১১ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে দুবাইয়ের সংস্থায় যোগ দেন তিনি।

বোয়িং৭৩৭ বিমানের বিশেষজ্ঞ স্মিত। নিজে বিমান চালানোর পাশাপাশি অন্য পাইলটদের মেন্টরিংয়ের কাজও তিনি করেছেন। ওয়েলিংকর ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্টের বিজনেস অ্যাডমিনস্ট্রেশনের ডিগ্রি রয়েছে তার।

ফ্লাইদুবাইয়ের ঘটনাটিকে সন্ত্রাসবাদী হানা বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। জানা গিয়েছে, আক্রমণকারী সহকারী পাইলট ওমানের নাগরিক। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের দাবি, ইসরায়েলি যাত্রীদের খুন করার উদ্দেশ্যেই ওই বিমান ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছিল।

‘সন্ত্রাসবাদী হামলার চেষ্টা’ বলে উলে­খ করেছেন তিনি এই ঘটনাকে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দাবি, বিমানটিকে ‘ক্র্যাশ’ করাতে চেয়েছিলেন অভিযুক্ত। যাত্রীদের সাহসিকতাকে তিনি কুর্নিশ জানিয়েছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে তার সরকার। সেখানে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নেতানিয়াহু বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সব যাত্রী এখন বিপদমুক্ত। ওই পাইলটকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি।’

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘যেসব হিরো অসাধারণ সাহসের পরিচয় দিয়েছেন, তাদের স্যালুট। তারা অনেক প্রাণ বাঁচিয়েছেন। বড় দুর্ঘটনা এড়িয়েছেন। বিমানটি সৌদি আরবে নিরাপদে অবতরণ করেছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, বিমানটি ‘হাইজ্যাক’ করার চেষ্টা হয়েছিল। ককপিটে গোলমালের খবর পেয়েই সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। যাত্রীদের আসনেও কয়েকজন পাইলট ছিলেন। তারা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিরস্ত্র করেন এবং বিমানটিকে সামাল দেন কোনো রকমে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিমান সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। যেকোনো মুহূর্তে তা ভেঙে পড়বে বলে তারা ধরেই নিয়েছিলেন। তবে নিরাপদেই সবাই সৌদিতে নেমেছেন।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ