খুলনা | শুক্রবার | ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ক্রীড়াঙ্গনে লজ্জার দিন বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক |
১১:৫০ পি.এম | ০১ অক্টোবর ২০২৬


একদিনে তিন ম্যাচ, তিন পরাজয়—বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন যেন পার করলো এক হতাশার দিন। এশিয়ান গেমসে সকালে ক্রিকেটে পাকিস্তানের কাছে হেরে পদকের লড়াইয়ে ধাক্কা খাওয়ার পর হকিতে চীনের কাছে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশ। দিনের শেষটা হলো আরও বড় ধাক্কায়। আসিয়ান কাপ ফুটবলে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলের বিশাল হার। ক্রিকেটে পদকের স্বপ্ন টিকে থাকলেও হকি ও ফুটবলে বাংলাদেশের দিনটি শেষ হয়েছে চরম হতাশায়।

ক্রিকেটে স্বপ্নভঙ্গ
এশিয়ান গেমসে ফাইনালে উঠার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু বৃষ্টি বিঘ্নিত ১৩ ওভারে নেমে আসা সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ছয় উইকেটে হেরে সেই স্বপ্ন থেমে গেছে। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ১১১ রান করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন তাওহীদ হৃদয়।

জবাবে ১১.৩ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে ফাইনালে উঠে যায় পাকিস্তান। আবদুল সামাদ ১৫ বলে অপরাজিত ৩০ এবং হাসান নেওয়াজ অপরাজিত ২৭ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

সোনার লড়াই থেকে ছিটকে গেলেও বাংলাদেশের সামনে এখন ব্রোঞ্জ জয়ের সুযোগ রয়েছে। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলেও র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় ব্রোঞ্জ জিতে নেবেন লিটন দাসরা।

হকিতে বড় ধাক্কা
ক্রিকেটের পর হকিতেও আসে বড় হতাশা। পুরুষদের স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চীনের কাছে ৭-১ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এই হারে এশিয়ান গেমসে পঞ্চম বা ষষ্ঠ হওয়ার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেছে। এখন সপ্তম-অষ্টম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে থাইল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

ম্যাচের শুরু থেকেই চীনের দাপট ছিল স্পষ্ট। প্রথম পাঁচ মিনিটেই দুই গোল হজম করে বাংলাদেশ। চীনের হয়ে চেন বেনহাই হ্যাটট্রিক করেছেন। ঝাং জিয়ালিং করেছেন দুটি গোল, আর ঝাও ইউলাই ও গাও জিয়েশেং একটি করে গোল করেন। বাংলাদেশের একমাত্র গোলটি করেন রাকিবুল হাসান।

ফুটবলে ৯ গোলের লজ্জা
দিনের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি অবশ্য এল ফুটবলে। ফিফা আসিয়ান কাপের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে এই হারে তিন ম্যাচের সবকটিতেই হার নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ এর আগে টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ এবং দ্বিতীয় ম্যাচে সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হেরেছিল। ফলে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ম‚লত সম্মান বাঁচানোর লড়াই। কিন্তু সেই ম্যাচেই রক্ষণভাগের ভঙ্গুরতা সবচেয়ে প্রকট হয়ে ওঠে।

ইন্দোনেশিয়ার হয়ে মিচেল বেকার একাই পাঁচ গোল করেছেন। বাংলাদেশের হয়ে একটি করে গোল করেন শাহরিয়ার ইমন ও ফারহান আলী ওয়াহিদ। প্রথমার্ধেই বাংলাদেশকে চাপে ফেলে ৬-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইন্দোনেশিয়া। শেষ পর্যন্ত ৯-২ গোলের জয় নিয়ে ফাইনালে উঠে যায় স্বাগতিকরা।

এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে সোনার স্বপ্ন থেমেছে সেমিফাইনালেই, হকিতে শীর্ষ ছয়ে থাকার সম্ভাবনা শেষ হয়েছে বড় হারে। আর ফুটবলে তিন ম্যাচে তিন হার, যার শেষটি এসেছে ৯ গোল হজম করে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ