খুলনা | শনিবার | ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ডুমুরিয়ার মিকশিমিল সরঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষে ব্যাহত পাঠদান

এফ এম মনির, ডুমুরিয়া |
১২:১৩ এ.এম | ০২ অক্টোবর ২০২৬


ডুমুরিয়ার মিকশিমিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবকাঠামোগত সংকট ও জলাবদ্ধতায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান। শ্রেণিকক্ষের জরাজীর্ণ টিনশেড চালে অসংখ্য ছিদ্র থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই কক্ষের মধ্যে পানি পড়ে ভিজে যায় শিক্ষার্থীদের বইখাতা ও শিক্ষা উপকরণ। ১৯৫১ সালে দৌলতপুর চুকনগর সড়কের পাশে মিকশিমিল বাজার সংলগ্ন বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। ৬১ শতাংশ জমির উপর অধিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষায় সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ৪জন শিক্ষার্থী বৃত্তি লাভ করেছে।  কিন্তু বর্তমানে পর্যাপ্ত ও নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ সংকটে বিদ্যালয়টির জরাজীর্ণ কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়েছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ সরদার বলেন, শ্রেণিকক্ষের টিনের চালগুলোয় অসংখ্য ছিদ্র হয়ে গেছে, কক্ষের  সামনের জায়গা ও মাঠ নিচু হওয়ায় অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক চলাচল ও খেলাধুলায় চরম বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি ২০২৪ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা হওয়ার পর মূলত শ্রেণিকক্ষের সংকট আরও প্রকট হয়েছে। ২০০৮ সালে নির্মিত হয় দুই কক্ষ বিশিষ্ট একটি একতলা ভবন, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। অভিভাবকদের জন্য নেই নির্দিষ্ট অপেক্ষার জায়গা, বাধ্য হয়ে তারা বিদ্যালয় চত্বরে যেখানে সেখানে অবস্থান করেন। বৃষ্টির সময় এ দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। অভিভাবক অনিমা সাহা বলেন, বৃষ্টির মধ্যে অনেক সময় ছাতা মাথায় আমাদের পানিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করা লাগে, অপর অভিভাবক ঝর্ণা বলেন, শ্রেণিকক্ষ গুলোর এই দুর্দশার ফলে আমরা বাচ্চাদের নিয়ে চিন্তিত থাকি, বৃষ্টি হলে শ্রেণিকক্ষের মধ্যে ও বারান্দায় পানি পড়ে কাঁদা পানির সৃষ্টি হয়, এতে অনেক বাচ্চা পা পিছালে পড়ে আঘাতপ্রাপ্তও হয়। 
প্রায় ২৫০ জন শিক্ষার্থীর এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮ জন শিক্ষক ও একজন কর্মচারী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য নেই একটি প্রয়োজনীয় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা। শিশুদের বিনোদন ও খেলাধুলার ব্যবস্থাও রয়েছে রুগ্ন অবস্থায়। সব মিলিয়ে বিদ্যালয়টির শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নানা সংকটে জর্জরিত। অভিভাবকদের অভিযোগ, কোমলমতি শিশুদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে পাঠদানের জন্য বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে জরাজীর্ণ টিনশেড শ্রেণিকক্ষের পরিবর্তে নতুন ভবন নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা এবং শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের পরিবেশ নিশ্চিত করা একান্ত জরুরী। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ