খুলনা | শনিবার | ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শতবর্ষি কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির

একাডেমিক ভবন ঘেঁষে ময়লার ভাগাড় ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি |
১২:১৬ এ.এম | ০২ অক্টোবর ২০২৬


শ্রেণিকক্ষ ঘেঁষেই ময়লা-আবর্জনার বিশাল স্তুপ। সেখান থেকে প্রতিনিয়ত দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে বেশির ভাগ সময়েই মাস্ক পরে থাকতে হয় শিক্ষার্থীদের। ময়লার স্তুপটি কয়েকবার অপসারণ করা হলেও সেখানে আবারও ফেলা হয় ময়লা। বিষয়টি নিয়ে অনেকটা অসহায় কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল এন্ড কলেজ ও পার্শ্ববর্তী কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সহচরী বিদ্যামন্দিরের পূর্ব পাশের একাডেমিক ভবনের গা ঘেঁষে জনৈক ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তিতে গড়ে তোলা হয়েছে ময়লার ভাগাড়। ভাগাড়ে দীর্ঘদিন ধরে জমতে থাকা ময়লা-আবর্জনার স্তুপ থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। এ ছাড়া স্কুলঘেঁষা ড্রেনের ময়লা ও পানি থেকে আসা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশে। সৃষ্টি হয়েছে মশা প্রজননের অভয়ারণ্য। বেড়েছে মশাবাহিত রোগের শঙ্কা। এতে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এমনকি স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে  বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশের দ্বিতল ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম, এমনটি জানালেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মন্ডল। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, বিষয়টি প্রশাসনে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কর্মকর্তারা এসে সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছেন। এরপরও ময়লার স্তুপ স্থায়ীভাবে অপসারণ করা যায়নি। ময়লার কারণে বিদ্যালয়ে মশা ও মাছির উপদ্রব বেড়েছে। পার্শ্ববর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুজ্জামান জানান, দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। এতে ওই জায়গা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এসব আবর্জনা আবার আশপাশের অনেকটা জায়গাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে আবর্জনা জমতে থাকায় বিদ্যালয়সহ আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। 
অভিভাবকরা জানান, স্কুলের শিক্ষার্থীরা টিফিনের সময় খেলাধুলা করে থাকে, ময়লা-আবর্জনার কারণে তা করতে পারে না। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা যায়,  শতবর্ষি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যামন্দিরের পাশে অবস্থিত শহিদ মিনার এবং একাডেমিক ভবনের পেছনে জনৈক শেখ  আলী আম্বিয়া আলীর বহুতল ভবনের পেছনের খালি জায়গাটিতে তৈরি হয়েছে এই ভাগাড়। এই ভবনের নিচতলাতেই ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে কপিলমুনি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। আর এই ময়লার ভাগাড় বর্তমান পরিষদ কার্যালয়ের পেছনে, যে পথে চলাচল করে কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। এ যেন আলোর নিচে অন্ধকার। স্থানীয় সরকারের খোদ ইউনিয়ন পরিষদের সাথেই গড়ে উঠেছে ভাগাড়, আর সেখানকার দুর্গন্ধে গত ছয় মাস শতবর্ষি বিদ্যাপীঠের একটি দ্বিতল ভবনের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকার পরেও টনক নড়েনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইউনুস আলী মোড়লের। উভয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তাকে একাধিকবার জানালেও কোন  সমাধান মিলেনি, এমন অভিযোগ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। এমনকি বিভিন্ন সময় তিনি তাচ্ছিল্যের সুরে পরিষদের সচিবকে জানানোর পরামর্শ দেন। স্থানীয়রা বলছেন, আশপাশের বাসাবাড়ি ও পার্শ্ববর্তী দোকানের ময়লা ফেলায় ওই জায়গা ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, দ্রুত ময়লার স্তুপ অপসারণ করে ভোগান্তি থেকে রেহাই দেওয়া হোক। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে অতিসত্বর ময়লার স্তুপ স্থায়ীভাবে অপসারণ করা দরকার। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মন্ডল বলেন, বেশ কিছুদিন পূর্বে কে বা কারা পূর্ব পাশের একাডেমী ভবনটির পিছনের একাধিক  জানালা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, পার্শ্ববর্তী ভবনের পাইপ ফেঁটে নোংরা পানি পড়ছে বিদ্যালয়ের দেওয়ালে। অভিযোগ করে কোন কাজ হয়নি। একাধিকবার ময়লা-আবর্জনার স্তুপ অপসারণ করা হয়েছে । কিছু দিনের মধ্যে পুনরায় আগের মতো অবস্থা হয়ে যায়। কোনোভাবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে অতিসত্বর ময়লার স্তুপ স্থায়ীভাবে অপসারণ করা দরকার। এ বিষয়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা চান তিনি। বিদ্যালয়ের নবগঠিত ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য এস এম মুস্তাফিজুর রহমান পারভেজ  জানান, প্রথম দিনেই বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে। পার্শ্ববর্তী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা হয়েছে। তৎক্ষণাৎ ইউপি চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান করা হবে বলে জানিয়েছেন পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী। উল্লেখ্য ১৯২৬ সালের প্রতিষ্ঠিত কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল এন্ড কলেজে এর বর্তমান ছাত্র-ছাত্রী সংখ্যা ৮০৩ জন এবং কপিলমুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৫৩৫ জন। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ