খুলনা | শনিবার | ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

কেশবপুরে বাঁশের বেড়া দিয়ে মন্দিরের জমি দখল, পূজা বন্ধ

কেশবপুর প্রতিনিধি |
১২:১৯ এ.এম | ০২ অক্টোবর ২০২৬


কেশবপুরের সরাপপুর গ্রামে মন্দিরের জমির মালিকানা দাবি করে বাঁশের বেড়া ও সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দখলের অভিযোগ উঠেছে। এতে ত্রিমোহিনী ইউনিয়নের সরাপপুর গ্রামের অর্ধশত বছরের পুরোনো মন্দিরটিতে বন্ধ রয়েছে পূজা অর্চনা। এবিষয়ে ০১ সেপ্টেম্বর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন মন্দির কমিটির নেতৃবৃৃন্দ।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর মনসা পূজার দিন  সরাপপুর দক্ষিণপাড়া সার্বজনীন কালী মন্দিরের পূজায় বাধা ও ভ‚য়া সাইনবোর্ড এবং বাঁশের বেড়া দিয়ে দখল করেছেন একই গ্রামের ধীমান বিশ্বাস, অসীম বিশ্বাস ও অশীত বিশ্বাসসহ  তাদের লোকজন। মন্দির দখলের ঘটনায় স্থানীয় হিন্দু স¤প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন হিন্দু ধর্মের কয়েকজন।
মন্দির কমিটির সুশান্ত মল্লিক ও স্থানীয় হিন্দু স¤প্রদায়ের লোকজন জানান, যে প্রক্রিয়ায় পক্ষটি মন্দিরের সামনের ও পাশের জমির মালিকানা দাবি করছেন, সেটি অবৈধ। আমাদের পূর্বপুরুষরা ৫০ বছর ধরে এখানে পূজা পালন করে আসছেন। প্রতিবছর এখানে কালী, শীতলা, রক্ষাচন্ডী, মনষা, শিব, হরি, বিষ্ণু, শনি দেবতার পূজা উদযাপিত হয়। তখন আশপাশের কয়েক এলাকার কয়েক হাজার মানুষের সমাগম ঘটে এখানে। এ ছাড়া স্থানীয়রা প্রতিদিন মন্দিরটিতে সন্ধ্যা দিয়ে আসছেন। মন্দির কমিটির সহ সভাপতি সুব্রত নন্দী বলেন, ‘মন্দিরের জমি দখল নেওয়ার পর থেকে তারা আশপাশে ঘোরাঘুরি করেন আর আমাদের হুমকিমূলক কথাবার্তা বলছেন।’
মন্দির কমিটির সভাপতি পুলকেশ মল্লিক বলেন, মন্দিরের পথ আটকে ফেলায়  মন্দিরে আমাদের পূজা অর্চনা বন্ধ রয়েছে। হুমকি দেওয়া হচ্ছে। স¤প্রদায়ের মধ্যে চাপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মন্দিরের জমির দলিল রেকর্ডসহ যাবতীয় কাগজপত্র থাকা সত্তে¡ও ভ‚য়া দলিল নিয়ে তারা আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রারি করছে। ইতিপূর্বে ভূমি অফিস কর্তৃক উক্ত দলিলটি ভ‚য়া বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তারপরো মন্দিরের জমি দখলে রেখে শিক্ষক সুশান্ত মল্লিকের নিজস্ব জমি ও সরকারি রাস্তা দখল করে মন্দির নির্মাণ করতে গেলে প্রশাসন বন্ধ করে দিলেও তারা সেখানে পূজা করছে। আমাদের নিজেদের জমি থাকা সত্তে¡ও আমরা পূজা করতে পারছি না।
দখলকারীরা বলছেন, তারা এটি ক্রয় করেছেন; কিন্তু মন্দিরের সম্পত্তি ক্রয় করা যায় না। আমরা সরকারের মাধ্যমে এর সমাধান চাই। অভিযুক্তদের দাবি, মন্দিরের সামনে ও পথের জমি তাদের নিজস্ব ক্রয়কৃত সম্পত্তি। প্রকৃত ওয়ারিশের কাছ থেকে তারা এটি ক্রয় করেছেন।
কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলেন, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অধিকতর তদন্তেÍর জন্য থানা পুলিশের কাছে দেয়া হয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। দুই পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। যাচাই বাছাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ