খুলনা | শুক্রবার | ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

সড়ক দুর্ঘটনায় বাম পা হারালেন পাইকগাছার শারমিন : পরিবারে অনিশ্চয়তার কালো ছায়া

পাইকগাছা প্রতিনিধি |
১২:২৬ এ.এম | ০২ অক্টোবর ২০২৬


কুষ্টিয়া থেকে বাড়ি ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় বাম পা হারিয়েছেন খুলনার পাইকগাছা পৌরসভার বাতিখালী এলাকার ৩৩ বছর বয়সী শারমিন জামান (লিমা)। বর্তমানে তিনি রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মারাত্মক এই দুর্ঘটনায় হাঁটুর ওপর থেকে তাঁর বাম পা কেটে ফেলতে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পরিবার। এর ফলে তাঁর চিকিৎসা এবং ভবিষ্যৎ পুনর্বাসন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর ভোরে শারমিন তাঁর বাবা নুরুজ্জামান টিটু এবং দুই মেয়েকে নিয়ে কুষ্টিয়া থেকে পাইকগাছার উদ্দেশে রওনা হন। কুষ্টিয়া থেকে পরিবহনে চুকনগর পৌঁছানোর পর তাঁরা একটি ভ্যানে করে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, ভোর ৬টার দিকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পুরাতন থানার সামনে পৌঁছালে সড়কের পাশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রডবোঝাই একটি আলমসাধু রাখা ছিল। একই সময়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মালবাহী ট্রাককে পাশ কাটাতে গিয়ে ভ্যানটির গতিপথ সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং সেটি ওই আলমসাধুর সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়।এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় শারমিন ও তাঁর বাবা নুরুজ্জামান টিটু গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাঁদের খুলনায় এবং অবস্থার অবনতি হলে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি ওই হাসপাতালের ১২ তলার ২০৬ নম্বর কক্ষে চিকিৎসাধীন আছেন। দুর্ঘটনায় শারমিনের সঙ্গে থাকা তাঁর ১৪ বছর ও সাড়ে ছয় বছর বয়সী দুই কন্যাসন্তানও এই পৈশাচিক ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। শারমিনের বাবা নুরুজ্জামান টিটু পাইকগাছা পৌর সদরে একটি ছোট সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবসা চালান। তাঁর সীমিত আয়েই কোনোমতে সংসার চলতো। মেয়ের উন্নত চিকিৎসা ও কৃত্রিম পা সংযোজনের জন্য এখন প্রচুর অর্থের প্রয়োজন, যা এই দরিদ্র পরিবারের পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। নুরুজ্জামান টিটু আকুতি জানিয়ে বলেন, “মেয়ের চিকিৎসায় ইতোমধ্যে জমানো সব টাকা শেষ হয়েছে। সামনে আরও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন। আমাদের সীমিত সামর্থ্যে এটি চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষগুলো একটু সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে আমার মেয়েটা হয়তো আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে। সড়কের পাশে এভাবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রডবোঝাই আলমসাধু ফেলে রাখাকেই এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করছে পরিবার। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় শারমিনের চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তবান ব্যক্তিদের প্রতি পরিবারের পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে। সহযোগিতা পাঠানোর যোগাযোগের ঠিকানা: নুরুজ্জামান টিটু (বাবা) ০১৭১৬৫৬৯৭৯১।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ