খুলনা | শুক্রবার | ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

১৪ বছর পর মামলা করেও বিচার পাচ্ছেন না স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রায়হান

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৫৪ এ.এম | ০২ অক্টোবর ২০২৬


খুলনা সিটি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ২০১০ সালে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছিলেন খুলনা সদর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান সদস্য সচিব রায়হান বিন কামাল। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি মামলা দায়ের করলেও আসামিদের গ্রেফতার না করে উল্টো অভিযোগ না পাওয়ার কথা উলে­খ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রায়হান বিন কামাল বলেন, “২০১০ সালের ৮ মার্চ দিনটি আমার জীবনে বিভীষিকাময় অধ্যায়। আমি তখন সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত ভিপি প্রার্থী এবং কলেজ শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ছিলাম। নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় জেনে ছাত্রলীগ আমার ওপর হামলা চালায়।
ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “আমার অসুস্থ বাবার চিকিৎসার জন্য অগ্রণী ব্যাংক, পিকচার প্যালেস শাখা থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে বাসায় ফেরার পথে সঙ্গীতা সিনেমা হলের মোড়ে ছাত্রলীগের ভিপি প্রার্থী বি. এম. মহিমের নেতৃত্বে ১৪-১৫টি মোটরসাইকেলে সশস্ত্র ক্যাডাররা আমাকে ঘিরে ফেলে। অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে আমাকে অপহরণ করে শেখপাড়া হয়ে ফরাজীপাড়ায় নিয়ে যায়। সেখানে আমার মোবাইল ও বাবার চিকিৎসার ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং ছুরিকাঘাত করে। পরে শান্তিধাম মোড়ে নিয়ে দেব দুলাল বাড়ই, বাপ্পি, সবুজ, হাসানসহ অন্যরা চাপাতি ও রড দিয়ে আমার ওপর নির্মম হামলা চালায়। কোপ ঠেকাতে গিয়ে আমার বাম হাতের রগ কেটে যায়।
তিনি আরও বলেন, “রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা আমাকে হাসপাতালে নিলে হামলাকারীরা পুলিশ নিয়ে সেখানেও হামলার জন্য আসছে খবর পেয়ে চিকিৎসকরা অসম্পূর্ণ চিকিৎসা দিয়ে পেছনের সিঁড়ি দিয়ে আমাকে বের করে দেন। পরে ঢাকার উত্তরায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ২ দিন আইসিইউতে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে প্রাণে বাঁচি। তৎকালীন সময়ে থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি।’
অভিযোগ করে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করলেও পুলিশ আসামিদের অবস্থান জানার পরও গ্রেফতার করেনি। মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ইমরান অনৈতিকভাবে মামলার প্রধান আসামি বর্তমানে এনএসআইতে কর্মরত বি এম মহিমের প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে সকল আসামির নাম বাদ দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
এ সময় তিনি মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সিআইডি বা পিবিআইতে হস্তান্তর এবং জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোনাডাঙ্গা থানায় দায়ের করা মামলায় ১৩ জনের নাম উলে­খ ও ১০-১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলার ১ নম্বর আসামি বি. এম. মহিম বর্তমানে এনএসআইতে কর্মরত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক ইমরান মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে” বলে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ