খুলনা | শুক্রবার | ০২ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

সাড়ে ৩ কোটি টাকা প্রতারণা মামলা

আসামি সোহেল আবারও ৩ দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৫৭ এ.এম | ০২ অক্টোবর ২০২৬


জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের কন্ঠ নকল করে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মামলার আসামি শেখ সোহেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবারও ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে পুর্বের ২ দিনের রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ সাইদুর রহমান তাকে আদলতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ইব্রাহিম খলিল মুহিম ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। সোহেল (৪৬) খুলনা সদর থানাধিন ১৯/৩, মুন্সিপাড়ার শেখ শারাফত হোসেনের ছেলে।    
আদালত সূত্রে জানা যায়, হুইপের কণ্ঠস্বর এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে নকল করে প্রতারণার ঘটনায় করা মামলায় এ পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার অপর ৫ জন হলেন সোনাডাঙ্গা থানাধীন ৪, দেবেন বাবু রোডের আব্দুল কাদেরের ছেলে এজাজ আহমেদ রাজা (৪৬), আড়ংঘাটা থানাধীন রায়েরমহল মধ্যপাড়ার জাফর মুন্সির স্ত্রী জাকিয়া বেগম (৩৮), খালিশপুর থানাধীন ৩৯, মুজগুন্নি কাজীপাড়ার আবুল কালাম হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার (৩৬), খানজাহান আলি থানাধীন শিরোমনি আবাসিক এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে মেহেদী হাসান ওরফে বাবুল ওরফে কাগজী বাবু (৪৬) ও খালিশপুর থানাধীন রায়েরমহল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের বাসিন্দা মুজিবর শরীফের ছেলে মোঃ ইমরান শরীফ রনি (২৪)। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে এজাজ আহমেদ রাজা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া জাকিয়া সুলতানার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।  
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ সাইদুর রহমান জানান, ২ দিনের রিমান্ডে আসামি সোহেল বেশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এছাড়া আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে তাকে আরও ৩ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। আশা করছি মামলার অগ্রগতি দ্রুত শেখ করতে পারব।  
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জিএম আজিজুর রহমান নগরীর পশ্চিম টুটপাড়ার জিএম এলাহি বকসের ছেলে। তাঁর বড় ভাই জিএম মফিজুর রহমান টিকু যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আরিফ তাঁর বড় ভাইকে ফোন করে জানান, জাতীয় সংসদের হুইপ ‘বকুল ভাই’ তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান। এরপর একটি বিদেশি নম্বর হুইপের নম্বর হিসেবে দেয়া হয়। ওই নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে কল করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে হুইপ বকুল পরিচয় দেন। ২৯ জুলাই রাত ২টা ৩৮ মিনিটে পশ্চিম টুটপাড়ার বাসায় থাকা অবস্থায় মফিজুর রহমান টিকু ওই ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ভাই ব্যবসায়ী আজিজুর রহমানকে গ্র“প কলে যুক্ত করেন। সেখানে প্লাটিনাম জুট মিলের পুরনো যন্ত্রাংশ কেনাবেচা নিয়ে আলোচনা হয়। এজাহারে বলা হয়, আলোচনার একপর্যায়ে হুইপ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি যন্ত্রাংশ কেনার আগে অগ্রিম পেমেন্ট ক্লিয়ার করার কথা বলেন। পরে ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করতে একজনকে পাঠানোর কথা জানানো হয়। ২৯ জুলাই বিকেল সোয়া ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে মাহাবুবুর রহমান মামুনের আসার কথা থাকলেও তিনি না এসে এজাজ আহমেদ রাজাসহ আরো একজনকে পাঠান। তাঁদের হাতে প্লাটিনাম জুট মিলের পুরনো যন্ত্রাংশ কেনার পেমেন্ট বাবদ দুই কোটি টাকা দেওয়া হয়। এরপর একই নম্বরে আবার যোগাযোগ করা হলে হুইপ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি ব্যবসায়ীকে হার্ডবোর্ড মিল কেনার প্রস্তাব দেন। পরদিন ৩০ জুলাই ভোরে আইনজীবী মোহাম্মদ আলী বাবু হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা দিয়ে জানান, ‘বকুল ভাই’ তাঁকে জুট মিলে যেতে বলেছেন। ওই দিন দুপুরে সেখানে গিয়ে যন্ত্রাংশ পছন্দ করার পর এজাজ আহমেদ রাজা ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের আরো দেড় কোটি টাকা দেন ব্যবসায়ী। এরপর হুইপ পরিচয়দানকারী ব্যক্তি বারবার দেখা করার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের হুইপ খুলনায় এলে তাঁর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করেন ব্যবসায়ী। পুরো ঘটনা জানালে হুইপ তাঁকে জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তখনই প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন ব্যবসায়ী। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী বাদী হয়ে খুলনা থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে দু’জনের নাম উলে­খ ও ৫/৬ জন অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন যার নং-২৩। মামলাটি তদন্তের জন্য ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলায় উলে­খিত দু’আসামি হলেন সোনাডাঙ্গা থানাধীন ৪, দেবেন বাবু রোডের আব্দুল কাদেরের ছেলে এজাজ আহমেদ রাজা (৪৬) ও একই রোডের মৃত শেখ নাছির উদ্দিনের ছেলে শেখ মাহবুবুর রহমান মামুন (৪৯)। 

প্রিন্ট

আরও সংবাদ