খুলনা | শনিবার | ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

৮০ টাকার নিচে মিলছে না অধিকাংশ সবজি, বাড়তি চাপে ভোক্তারা

নিজস্ব প্রতিবেদক |
০১:৩৭ এ.এম | ০৩ অক্টোবর ২০২৬


বাজারে নিত্যপণ্যের দামে এখনও স্বস্তি ফেরেনি। অধিকাংশ সবজিই বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। ৮০ টাকার নিচে মিলছে না অধিকাংশ সবজি। শীতের সবজির মৌসুম ঘনিয়ে এলেও বাজারে এর প্রভাব এখনও তেমন একটা পড়েনি। ফলে বাড়তি দামে সবজি কিনতে গিয়ে চাপে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা। এ দিকে স্থানভেদে ডিমের দাম বেড়েছে। মুরগি আগের দামেই বিক্রি হলেও কিছু মাছের দাম বেড়েছে। শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ সব তথ্য জানা গেছে।
গতকালকের বাজারে করলা, লতি, পটল, কাঁকরোল, শসা ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়স ৬০ টাকা। লাউ আকারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গাজর ১৪০ টাকা, পেঁপে ৩০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, আলু ৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৫০ টাকা, শিম ২০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা এবং গোল বেগুন ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 
সবজির মধ্যে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শিম। প্রতি কেজি শিমের দাম ২০০ টাকা। এছাড়া গাজর ও গোল বেগুন ১৪০ টাকা এবং টমেটো ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে কিছুটা কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। আগে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
দাম বেড়েছে কিছু মাছের : মাছের বাজারেও খুব একটা স্বস্তি নেই। রুই মাছ আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, গত সপ্তাহে এর দাম ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, পাবদা ৬০০ টাকা, কই ৩৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা এবং পাঙ্গাস ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি আকারভেদে প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
পাবদা মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। গত সপ্তাহে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকা কেজি দরে। ছোট-বড় অন্যান্য মাছও মান ও আকারভেদে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে।
অপরিবর্তিত মুরগির দাম, ডিমে ভিন্নতা : মুরগির বাজারে আগের মতোই ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকা কেজিতে। তবে ডিমের দামে স্থানভেদে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। প্রতি ডজন ডিম ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা ক্রেতা আসলাম হোসেন বলেন, ‘সবজির দাম শুনতে কিছুটা কম মনে হলেও একসঙ্গে কয়েক ধরনের সবজি কিনলে বেশ ভালোই টাকা চলে যাচ্ছে। শিম, মরিচ, গাজরের মতো সবজির দাম অনেক বেশি। মাছ ও ডিমের দামও কম নয়।’
আরেক ক্রেতা কামাল বলেন, ‘প্রতিদিনই কোনও না কোনও পণ্যের দাম নিয়ে চিন্তা করতে হচ্ছে। পরিবারের প্রয়োজনীয় সব পণ্য কিনতে গেলে বাজেটের চেয়ে বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। শীতের সবজি বাজারে এলে দাম কিছুটা কমবে এটাই আশা।’
বিক্রেতারা বলছেন, শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লে বাজারে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে। তবে বর্তমানে চাহিদা ও সরবরাহ, পরিবহন খরচ এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্রতিদিনই কিছু পণ্যের দামে পরিবর্তন হচ্ছে। ফলে নিত্যপণ্যের বাজারে ক্রেতাদের স্বস্তি এখনও পুরোপুরি ফেরেনি।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ