খুলনা | শনিবার | ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

আটক বৃন্দা, আতিশী ও সঞ্জয় সিংহসহ ১০০০ : দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা, ১২ মেট্রো স্টেশন বন্ধ

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল যন্তর মন্তর

খবর প্রতিবেদন |
০১:৪৪ এ.এম | ০৩ অক্টোবর ২০২৬


মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লির যন্তর মন্তর। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে সরব হয়ে শুক্রবার বিক্ষোভে নামেন বাম ছাত্র-যুব সংগঠনসহ একাধিক বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিকেল পর্যন্ত ১০০০-এর বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।
আটকদের তালিকায় রয়েছেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি, নেত্রী বৃন্দা কারাট, আপ নেত্রী ও দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আতিশী, রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংহ, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব এবং আইসা (অওঝঅ) নেত্রী নেহা বোরা। পুলিশি বাধার মুখে রাস্তায় বসেই ধর্না শুরু করেন সঞ্জয় সিংহ। অন্যদিকে প্রিজন ভ্যান থেকেই এমএ বেবি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার গণতন্ত্রের হত্যাকারী।
বিরোধী বিক্ষোভকারীদের এভাবে আটক করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিরোধী শিবির। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশকে নিশানা করে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র সমাজমাধ্যমে লেখেন, “নাগরিকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য কোনও অনুমতির প্রয়োজন নেই।”
বিক্ষোভের কারণে রাজধানীতে ব্যাপক যানজট ও নিরাপত্তাজনিত কড়াকড়ি দেখা যায়। দিল্লির ট্রাফিক পুলিশ কনট প্লেস, পটেল চক, তলস্তয় মার্গ ও সংসদ ভবন সংলগ্ন এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। নিরাপত্তার খাতিরে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, নয়াদিল্লিসহ গুরুত্বপূর্ণ ১১টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়।
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ এবার দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধীরা। মহারাষ্ট্রের শিবাজি পার্কে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। মুম্বইয়ের পাশাপাশি কলকাতা, বেঙ্গালুরু ও গোয়ায় ‘জেল ভরো’ কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন সিজেপি প্রধান দীপক। পাশাপাশি, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের পক্ষ থেকে শুক্রবার থেকেই ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ অভিযান শুরু হয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর বিরোধী সাংসদরা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবেন এবং ৮ অক্টোবর সারা দেশের জেলাশাসক দফতরগুলির সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দিল্লিতে কড়া নিরাপত্তা, ১২ মেট্রো স্টেশন বন্ধ : ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভের অনুমতি না দিলেও শুক্রবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রায় ৪ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, জেলা পুলিশ, রিজার্ভ ফোর্স, র‌্যাপিড এ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) এবং অন্যান্য আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) ২০ কোম্পানিকেও দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দ্য ওয়্যারের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
শুক্রবার দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ১১টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ থাকবে। এগুলো হলো-জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক, সেবা তীর্থ, মাণ্ডি হাউস, লোক কল্যাণ মার্গ, আইএনএ, চাওরি বাজার, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ ও নিউ দিল্লি। তবে রাজীব চক, মাণ্ডি হাউস, আইএনএ, নিউ দিল্লি ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট স্টেশনে আন্তঃলাইন পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। পরে বরখাম্বা রোড মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথও বন্ধ করা হয়। ফলে বিক্ষোভস্থলের আশপাশে মোট ১২টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ-প্রস্থান বন্ধ হয়েছে।
এদিকে দিল্লি পুলিশ বৃহস্পতিবার জানিয়েছিল, চলতি সপ্তাহে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে কোনো সংগঠনকে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়া হয়নি। ২৮ সেপ্টেম্বর এআইএসএর সভাপতি নেহা বোরার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় কর্মসূচির বিষয়ে চিঠিও জমা দিয়েছিল।
ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসও যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের অনুমতি চেয়েছিল। তবে তাদেরও অনুমতি দেয়া হয়নি। পুলিশ আশঙ্কা করছে, যন্তর মন্তরে বড় সংখ্যায় বিক্ষোভকারী জড়ো হতে পারেন। এ কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অতিরিক্ত বাহিনী চাওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড, সংসদ মার্গ হয়ে যন্তর মন্তর পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড দেয়া হয়েছে। বিক্ষোভস্থলের দুই দিক- টলস্টয় মার্গ ও কেরালা ভবন দিয়েও প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। অশোকা রোডের কাছেও বসানো হয়েছে ব্যারিকেড।
এ বিক্ষোভে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তোলা হয়েছে। আয়োজকদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং নির্বাচন পরিচালনায় অনিয়ম হয়েছে।
চলতি বছর দিল্লিতে বিক্ষোভের কারণে চতুর্থবারের মতো গণপরিবহন ও সড়ক ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হলো। গত মাসে রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সময় ১৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নোটিশ পাঠায়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ